এশিয়া কাপে হবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষা

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দল নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে দল। টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ বা নির্বাচকরা বারবার বলেছেন, স্কোয়াডের গভীরতা পরখ করতে চান তারা। তাই বলে এশিয়া কাপেই এত বড় পরীক্ষা দিতে হবে, এটা নিশ্চয় ভাবেননি তাঁরা!

চোট সমস্যা থেকে সেরে উঠতে বড় ছুটি পেয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে ওপেনিংয়ে লিটন দাস ছিলেন। গত দেড় বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তাই তাঁকে এক পাশে রেখে বিকল্প ওপেনার খোঁজায় মন দিতে চেয়েছে দল। কিন্তু এশিয়া কাপে লিটন দাসকে পাচ্ছে না দল।

দল শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে জ্বর হয় লিটনের। ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও এখনো সেরে উঠতে পারেননি তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁর পরিবর্তে এনামুল হক বিজয়কে পাঠানো হয়েছে। তাতে নিশ্চিত হয়েছে, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান আসলে কেমন, তার একটা পরীক্ষা এশিয়া কাপেই হয়ে যাবে।

এনামুল বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত ডিসেম্বরে। ভারতের বিপক্ষে সে সিরিজের পর থেকে আর ওয়ানডেতে ডাক পাননি তিনি। ৪৪ ওয়ানডের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এনামুলকে দলে ডাকা প্রসঙ্গে নির্বাচক কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে সে রানে আছে এবং বাংলাদেশ টাইগার্স প্রোগ্রামে ওকে নজরে রাখা হয়েছে। সে সবসময় আমাদের বিবেচনায় ছিল। লিটন না থাকায় আমাদের এমন একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান দরকার ছিল যে উইকেটকিপিং করতে পারে। এজন্যই এনামুলকে ডাকা।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে এনামুল যে রানে আছেন, সেটা অবশ্য সত্য। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৮৩৪ রান করেছেন এনামুল। লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, লিগে সর্বোচ্চ রান করে তাঁর ওপেনিং সঙ্গী মোহাম্মদ নাঈম শেখ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ডাক পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ৭২ গড় ও ৯২ স্ট্রাইকরেটে ৯৩২ রান করা নাঈম আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচে ২৯ বলে করেছেন ৯ রান।

এরপর ইমার্জিং এশিয়া কাপে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের ‘এ’ দলগুলোর বিরুদ্ধেও চার ইনিংসে কোনো ফিফটি পাননি নাঈম। তবু তাঁকে আরেকটু বাজিয়ে দেখার জন্য এশিয়া কাপের স্কোয়াডে রেখেছে দল। লিটনের জ্বর এবার এনামুল হক বিজয়কেও সুযোগ করে দিল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে ওপেনিং জুটিতে রানবন্যা বইয়ে দেওয়া এই দুজন এশিয়া কাপে কেমন করেন তা নিয়ে তাই কৌতুহল জাগছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম দেখাতে পারবেন দুজন নাকি আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় ক্রিকেটের তফাৎ বুঝিয়েই সন্তুষ্ট হবেন তারা?