গত শনিবার সেল্টিক সমর্থকগোষ্ঠী চমকে দিয়েছিল সবাইকে। লিগে কিলমারনকের বিরুদ্ধে নিজেদের মাঠে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যানার ঝুলিয়েছিল এই গ্রুপ। ফিলিস্তিনের পতাকার ভিড়েও স্পষ্ট সেই ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর। প্রতিরোধের জয় হোক।’
কিন্তু এমন কিছু পছন্দ হয়নি ক্লাবের। সেল্টিক ক্লাবের পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করে এমন বার্তা যেন না দেওয়া হয়, সেটা জানাতে বেশ কড়া বার্তা ব্যবহার করা হয়েছে।
কড়া ভাষার সেই বিবৃতিতে লেখা হয়েছিল, ‘শনিবারের ম্যাচের আগে যে ব্যানার প্রদর্শিত হয়েছে, সেটা সেল্টিক ফুটবল ক্লাবের মতাদর্শের সঙ্গে যায় না। সেল্টিক পার্কে এমন বার্তা দেখানোর নিন্দা জানাই। সেল্টিক একটা ফুটবল ক্লাব, কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান না।’
দীর্ঘ বার্তায় এমন সংঘাতে কোনো নির্দিষ্ট জাতির পক্ষে কোনো রাজনৈতিক বার্তা না দিতেও বলা হয়েছিল। এমন কড়া বার্তায় যদিও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। সমর্থক গোষ্ঠী সেল্টিকের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সময় ক্লাবের অবস্থান মনে করিয়ে দিয়েছে।
সমর্থক গোষ্ঠী তাদের বিবৃতিতে ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একদম ধুয়ে দিয়েছে, ‘সেল্টিকের নতুন বিবৃতির পর, আমরা আমাদের অটল বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতে চাই যে, অন্য সাধারণ নাগরিকের মতো আমাদের এবং অন্যান্য ফুটবল সমর্থকদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করার অধিকার আছে। ফুটবল জনজীবনের এমন কিছু ক্ষেত্রগুলোর একটি, যেখানে এখনো কর্মজীবী মানুষের প্রকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা আছে এবং আমরা এমন একটি অভিজাত বোর্ডের কথায় চলব না যারা বারবার সেল্টিক ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।’
এর পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ক্লাব কী করেছিল, সেটা মনে করিয়ে দিয়েছে গ্রিন বিগ্রেড, ‘ক্লাব কর্তৃপক্ষের বর্তমান ভণ্ডামি দুঃখজনকভাবে ইউক্রেনের উদাহরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক এবং মিডিয়া শ্রেণির বেশির ভাগ অংশের সঙ্গে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হয়েছে। সে সময় সেল্টিক পার্কে রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণকে স্বাগত জানানো হয়েছিল; কিন্তু এখন নিন্দা করা হচ্ছে। যেকোনো যুক্তিসঙ্গত মনে প্রশ্ন জাগবে, কেন? কেন ইউক্রেনের মানুষের জীবন ফিলিস্তিনিদের জীবনের চেয়ে বেশি পবিত্র?’
এর পর শুধু মুখের কথা বা ব্যানার টাঙিয়ে নয়, ফিলিস্তিনিদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছে তারা, ‘আগামী ২৫ অক্টোবর আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আমরা সমস্ত সেল্টিক সমর্থকদের ইউরোপীয় মঞ্চে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরতে বলব, বিশ্বকে দেখাব যে সেল্টিক ফুটবল ক্লাব নির্যাতিতদের সাথে দাঁড়িয়েছে, নিপীড়কের পাশে নয়। আমাদের অবশ্যই বর্ণবিদ্বেষী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্ণবিদ্বেষী ইসরায়েলকে শেষ করে দিতে হবে। আমরা যদি অন্যায়ের পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকি, তবে আমরা আসলে নিপীড়কের পক্ষ বেছে নিয়েছি। আর, আমরা সমর্থকদের এমএপি গাজা জরুরি তহবিলে অনুদান দিতে অনুরোধ করছি।’