ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে কথা হচ্ছিল এ নিয়ে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে কিন্তু ইংলিশ ফুটবলের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘাত নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছিল না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ অবশেষে গত পরশু রাতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।
লিগ অবস্থান জানানোর পর ক্লাবগুলোও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিতে না চাওয়া ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগের বার্তাটাই ছড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু চেলসি তাতে সন্তুষ্ট নয়। নিজেদের বার্তায় আলাদা করে শুধু ইসরায়েলের মৃতদের নিয়ে শোক জানিয়েছে। লন্ডনের ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
গত পরশু রাতে বিবৃতিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংকটে প্রিমিয়ার লিগ বিস্মিত ও দুঃখিত। নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়ঙ্কর ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’
‘আমরা শান্তির আশা করি, এবং ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের পরিবার এবং তাদের সম্প্রদায়ের জন্য আন্তরিক সহানুভূতি জানাই। ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী শনিবার ২১ অক্টোবর থেকে সোমবার ২৩ অক্টোবরের ম্যাচগুলোতে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়, ম্যানেজার এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা কালো বাহুবন্ধনী পরবেন এবং এক মুহুর্ত নীরবতা পালন করবেন।’
‘জরুরী প্রয়োজনে সাহায্য করার সহায়তা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ব্রিটিশ রেড ক্রসকে অনুদানও দেবে লিগ।’
এত বড় এক বিবৃতির পর ক্লাবগুলো আর আলাদা করে বেশি কিছু যোগ করেনি বার্তায়। এই বার্তাটাই শেয়ার করে তারা ইসরায়েল ও গাজায় হতাহতদের জন্য শোক জানিয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল-সবার ভাষাই প্রায় এক। শুধু কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নেমে তারা নীরবতা পালন করবে সেটা আলাদা করে জানিয়েছে।
চেলসিও সে কাজটা করেছে। তারাও অন্য ক্লাবের সঙ্গে ইসরায়েল ও গাজায় মৃতদের সম্মান জানাতে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু বার্তার শুরুতে তারা যা বলেছে, সেটাই তাদের আলাদা করে দিচ্ছে, ‘গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েলে হামলার পর ব্যাপক প্রাণহানিতে চেলসি অত্যন্ত দুঃখিত। বিশ্বজুড়ে ইহুদি বিদ্বেষের ক্রমবর্ধমান জোয়ার সত্ত্বেও- যার বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছি- আমরা লন্ডন এবং সারা বিশ্বের ইহুদি সম্প্রদায়ের সাথে আছি।’
এমন বিবৃতি অনেক সমর্থকের মনেই ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে।