মরক্কান বংশোদ্ভূত ডাচ উইঙ্গার আনোয়ার এল ঘাজির চুক্তি বাতিল করেছে জার্মান ক্লাব মাইন্স। তাঁর দোষ? গাজায় ফিলিস্তিনের হতাহতদের পক্ষ নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল তাঁর ক্লাব। সে পোস্ট মুছে ফেলার পর ক্লাবের পক্ষ থেকে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে ব্যাখ্যাকে নিজের মত না বলে জানিয়ে দেন এল ঘাজি। এরপরই তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে মাইনস।
গতকাল এক বিবৃতিতে মাইন্স জানিয়েছে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়ের মন্তব্য ও পোস্টের কারণে’ চুক্তি বাতিল করছে তারা। আর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ক্লাবটি।
এল ঘাজি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এসে নিজের অবস্থা জানিয়েছেন, ‘যা ঠিক তার পক্ষে দাঁড়াও, যদি একা দাঁড়াতে হয় তবু।’ ২৮ বছর বয়সী আরও বিস্তারিতভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সে টুইটে, ‘গাজায় নিরপরাধ ও অসহায়দের ওপর যে জাহান্নাম নামিয়ে আনা হয়েছে তার তুলনায় আমার চাকরি চলে যাওয়া কিছুই না।’
এর আগে মুছে ফেলা এক টুইটেও গাজার পক্ষে কথা বলেছিলেন। সে টুইটের পর সমালোচনা হওয়ায় মাইনস তাঁকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছিল। গত সোমবার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ক্লাব বলে, তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এবং বলা হয়েছে এল ঘাজি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে, হামাসেরও এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র কেন আছে- এমন কোনো প্রশ্ন করেননি।
তবে গত বুধবার এল ঘাজি বলেছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া এমন পোস্ট দিয়েছে মাইন্স, ‘নিজের অবস্থান নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই বা আমি অনুতপ্ত নই। যা বলেছি, সে অবস্থান থেকে নিজেকে সরাতে রাজি নই। আজ যেমন দাঁড়িয়েছি, শেষ নিঃশ্বাস ফেলা পর্যন্ত মানবিকতা ও নির্যাতিতের পক্ষে থাকব আমি।’
এরপর আবার আরেক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এল ঘাজি। কিন্তু মাইন্স তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।