প্রথম মিনিটে গোল খেয়ে, বিরতিতে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে, ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। অন্য কোনো দিনে এ জয়ে মাদ্রিদের ফিরে আসার গল্পই লেখা হতো আরও শতবারের মতো। কিন্তু সান্তিয়াগো বের্নাব্যুতে আজ আলমেরিয়ার বিপক্ষে মাদ্রিদের এ ফিরে আসার দারুণ গল্পে একটু দাগ লাগিয়ে রেখেছে রেফারিং বিতর্ক।
মাদ্রিদ এক গোল ফিরিয়ে দেওয়ার পর ভিএআরে আলমেরিয়ার একটা গোল বাতিল হয়েছে, আবার মাদ্রিদের সমতাসূচক গোলের পথে মাঠের রেফারি গোল বাতিল করলেও ভিএআর সে গোলে বৈধতা দিয়েছে - আলমেরিয়ার আজ অভিযোগ থাকবে অনেক।
অথচ শুরুর গল্পটা কী ভিন্ন ছিল! আলমেরিয়া যে গোল পেয়ে গেছে ৩৮ সেকেন্ডই! রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা তখনো গুছিয়েই উঠতে পারেননি। এর মধ্যেই গোল খেয়ে গেল মাদ্রিদ! সান্তিয়াগো বের্নাব্যুর গ্যালারি তখনো যেন বুঝেই উঠতে পারেনি কী হয়ে গেল!
মাদ্রিদ রাইটব্যাক দানি কারভাহাল কী করছিলেন, সে এক ধাঁধা বটে। কিক-অফের পর ৩৮ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি জায়গা ছেড়ে অত ওপরে কী করছিলেন, তাঁকে পার করে আলমেরিয়ার লার্জি রামাজানি কীভাবে মাদ্রিদ বক্সে ফাঁকা জায়গা পেয়ে গেলেন, এ ধাঁধা মেলাতে মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে ঘাম ঝরাতে হবে নিশ্চিত।
যা-ই হোক, ৩৮ সেকেন্ডেই রামাজানির গোলে এগিয়ে আলমেরিয়া। ২০১৫ সালে রেয়াল সোসিয়েদাদের এলুস্তন্দোর গোলের পর (সেটাও ৩৮ সেকেন্ডেই) এই প্রথম মাদ্রিদ কোনো ম্যাচে এত আগেভাগে গোল খেল মাদ্রিদ।
কিন্তু গোল খেয়ে গুছিয়ে নেওয়া কী, উলটো ৪৩ মিনিটে আবার গোল খেয়ে গেল মাদ্রিদ। এবারও রক্ষণের ভুল, নির্বিষ একটা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের সামনে আলমেরিয়ার এদগার গনসালেসের পায়ে তুলে দেন মাদ্রিদ ডিফেন্ডার নাচো। গনসালেসের প্রথম স্পর্শের দারুণ শট জালে! মাদ্রিদ ০: ২ আলমেরিয়া। বিরতিতেও ব্যবধান তা-ই। মাদ্রিদের দুঃস্বপ্নের ৪৫ মিনিট। শুধু গোল খাওয়াই নয়, আক্রমণেও কিছুই করতে পারেনি মাদ্রিদ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য মাদ্রিদ দেখা দিল! আনচেলত্তির তিন বদলও আক্রমণাত্মক হতে সাহায্য করেছে মাদ্রিদকে। মঁদি, রদ্রিগো ও নাচোকে উঠিয়ে নামালেন ফ্রান গার্সিয়া, হোসেলু ও ব্রাহিম দিয়াসকে।
ফল ৫৫ মিনিটেই পেল মাদ্রিদ। বক্সে হোসেলুর শট ঠেকাতে গিয়ে আলমেরিয়া ডিফেন্ডারের হাতে লাগল, পেনাল্টি পেল মাদ্রিদ। তা থেকে গোল করে মাদ্রিদের ফিরে আসার শুরু করেন বেলিংহ্যাম।
এরপর হলো যত রেফারিং বিতর্ক। ৬১ মিনিটে তৃতীয়বার বল জালে জড়িয়েছিল আলমেরিয়া, পালটা আক্রমণের শেষে আরিবাস বলটা জালে জড়ান। কিন্তু ভিএআর জানায়, পালটা আক্রমণের পথে নিজেদের অর্ধে আলমেরিয়ার এক খেলোয়াড়ের হাত লেগেছে মাদ্রিদের বেলিংহ্যামের মুখে। গোল বাতিল!
এরপর ৬৬ মিনিটে আবার আলোচনায় ভিএআর। আবার মাদ্রিদের পক্ষে সিদ্ধান্ত! ভিনিসিয়ুস বল জালে জড়িয়েছেন, কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত আসে - শট নেওয়ার আগে ভিনির হাতে বল লেগেছে। আসলে বলটা ভিনির হাতে নাকি বাহুতে লেগেছে তা নিয়ে সংশয় ছিল। ফল? আবার ভিএআর কাজে নামল। তাদের সিদ্ধান্ত এল, বল ভিনির হাতে লাগেনি। গোল মাদ্রিদের! ২-২!
এরপর ৮১ মিনিটে ভিনি সহজ সুযোগ হারান, ৮৩ মিনিটে বেলিংহ্যামের দারুণ শট যায় পোস্ট ঘেঁষে। ৯০ মিনিট তখন শেষ, কিন্তু ম্যাচে এত সময় নষ্ট হওয়ায় সময় যোগ করা হয় ১১ মিনিট। তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলেন আলমেরিয়া কোচ।
আলমেরিয়ার দু:খগাঁথার সেখানেই শেষ নয়। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে শেষ ধাক্কাটা খেল তারা। গোল করলেন কারভাহাল! মাদ্রিদের ফিরে আসার গল্প লেখা সমাপ্ত!