রূপার দামে হীরা? আর্জেন্টিনার ‘মেসির ক্লোন’ যেন লিভারপুলের মেসিই

মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো! ইউরোপের দলবদলের বাজারে এ দামে এখন গড়পড়তা খেলোয়াড় পাওয়া যায়। কিন্তু এই মৌসুমে লিভারপুল যেন রূপার দাম দিয়ে হীরা কিনে এনেছে! বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারকে যে এই দামেই কিনে এনেছে তারা!

সেই হীরাই প্রিমিয়ার লিগের শেষ অঙ্কে লিভারপুলের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছেন। নিজেদের মাঠে লিভারপুল কাল ৩-১ গোলে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারিয়ে আবার ফিরেছে লিগ শীর্ষে, বাঁচিয়ে রেখেছে লিগ শিরোপার স্বপ্ন। সে স্বপ্নের সারথি হয়ে দেখা দিচ্ছেন ম্যাকঅ্যালিস্টার।  মাসখানেক ধরেই লিভারপুলের সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠা আর্জেন্টাইনের চোখধাঁধানো গোলই যে ম্যাচে জয়ের দিকে নিয়ে গেছে লিভারপুলকে!

ম্যাকঅ্যালিস্টারকে মজা করে বলাই হয়  'লিভারপুলের মেসি।' বলের নিয়ন্ত্রণ, মাঝমাঠে দারুণ চাপেও সহজ সমাধান বের করার ক্ষমতা, আর চেহারায় মেসির সঙ্গে মিল - নামটা পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি ম্যাকঅ্যালিস্টারের। আর্সেনাল আর ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে 'মেসির ক্লোন' যেন লিভারপুলের মেসাইয়াই হয়ে উঠেছেন।

আগের দিন আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের ম্যাচ জেতায় কাল লিভারপুলের জয়ের বিকল্প ছিল না। পয়েন্ট হারালেই পিছিয়ে পড়তে হতো দৌড়ে। গতকাল লিভারপুল ম্যাচের আগ পর্যন্ত হিসাবটা ছিল এই - ৩০ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল আর্সেনাল, পরের দুই অবস্থানে থাকা লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট সমান ৬৭। তবে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা একটি ম্যাচ কম খেলেছিলেন। বাকি থাকা সে ম্যাচে জিতে টেবিলের শীর্ষে ফেরার সুযোগ ছিল অলরেডদের সামনে। সুযোগ হাতছাড়া করেনি লিভারপুল।

শেফিল্ড গোলকিপারের ভুলে প্রথমে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন দারউইন নুনিয়েস। এরপর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে ক্রিস উইলডারের শিষ্যরা। ম্যাচ জমে ওঠে দারুণভাবে। কিন্তু শেষ ৩০ মিনিট শেফিল্ডকে পাত্তাই দেয়নি অল রেডরা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়েছেন কোদি খাকপো। 

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ওঠে শেফিল্ড। এ যাত্রায় জেমস ম্যাকাটির শট ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলকিপার কেলেহার। তবে কর্নার পায় শেফিল্ড। কর্নার থেকে এগিয়ে যেতে পারত সফরকালীরা। কিন্তু বেন দিয়াসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।  

শুরুতে শেফিল্ডের আক্রমণ দেখে আড়মোড়া ভাঙে লিভারপুলের। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে টানা আক্রমণ চালায় ক্লপের শিষ্যরা। কিন্তু কোনোভাবেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। অবশেষে ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথমবারের মতো উদযাপনের সুযোগ পায় অল রেডরা।

শেফিল্ড গোলকিপার ইভো গরবিচের হাস্যকর ভুলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এবার স্বাগতিকরা কোনো আক্রমণ করেননি। গরবিচের পায়ে তখন বল। শেফিল্ড গোলকিপার ভাবছিলেন কার উদ্দেশ্যে বল বাড়াবেন। নুনিয়েসকে এগিয়ে আসতে দেখে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন গরবিচ। তাড়াহুড়ো করে শট নেন, কিন্তু সেটি লাফিয়ে ওঠা নুনিয়েসের পায়ে গেলে আশ্রয় নেয় শেফিল্ডের জালে।

এক গোলে এগিয়ে গিয়েও স্বস্তিতে ছিল না লিভারপুল। যদিও বল দখলের লড়াইয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টারও কমতি ছিল না। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে অ্যালিস্টারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির ঠিক আগে লিভারপুলকে আরেকবার গোল বঞ্চিত করেন গরবিচ।

বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে লিভারপুল। কিন্তু ৫৭ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসে ক্লপের দল। লিভারপুলের ডি বক্সে শেফিল্ড মিডফিল্ডারের হেড গোলমুখ বরাবর ছিল না। কিন্তু সেটি ব্র্যাডলির পায়ে লেগে লিভারপুলের জালেই আশ্রয় নেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোল হজম করে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্লপের শিষ্যরা। টানা আক্রমণের ফল ৭৬ মিনিটে পায় স্বাগতিকরা। ডি বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে স্কোরলাইন ২-১ করেন অ্যালিস্টার। সর্বশেষ ৬ ম্যাচে এটি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের চতুর্থ গোল।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ম্যাকঅ্যালিস্টারের দুর্দান্ত একটি ফ্রিকিক পোস্টে লেগে ফেরত আসে। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে লিভারপুলকে জয়ের নিশ্চয়তা এনে দেন খাকপো। অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করেন তিনি।