বার্সেলোনাকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে ‘পৈশাচিক’ আনন্দ পাচ্ছে পিএসজি

৮৮ মিনিটে স্কোরলাইন যেমন ছিল, তেমন থাকলেও পিএসজি সেমিফাইনালে চলে যেত। কিন্তু তখনো পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন বা সেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া শব্দ- ‘রেমন্তাদা’র আশা ছিল বার্সেলোনার। এই পিএসজির বিপক্ষে ২০১৭ সালে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরে যাওয়া কাতালানরা ঘরের মাঠে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছিল।

নেইমারের জাদুকরী এক ম্যাচে ৬-১ গোলের রেমন্তাদার দিন বার্সেলোনার ডাগআউটে ছিলেন লুইস এনরিকে। কী আশ্চর্য, বার্সেলোনার ঘরের মাঠে আরেকটি প্রত্যাবর্তনের দিনেও জয়ী কোচের নাম এনরিকে। শুধু এবার পিএসজির ডাগআউটে ছিলেন এই স্প্যানিশ কোচ।

৮৯ মিনিটে আশরাফ হাকিমি বল নিয়ে ছুট লাগালেন। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেমবেলে। হাকিমির পাস থেকে বল পেয়ে নেওয়া এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দিলেন মার্ক- আন্দ্রে টের স্টেগেন। ফিরতি বল থেকে নেওয়া মার্কো আসেনসিওর শটও ঠেকিয়ে দিলে সে বল জুলস কুন্দে হয়ে আবার চলে আসে এমবাপ্পের কাছে।  

এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দাঁড়াল ৪-১। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে বার্সেলোনাকে হারিয়ে তিন বছর পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পিএসজি। ওদিকে টানা পঞ্চম বছরের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দেখা যাবে না বার্সেলোনাকে।

বার্সেলোনাকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমের কী অবস্থা সেটা বোঝাতে পিএসজি কোচ বলেছেন, এ জয়ে যে আনন্দ পাচ্ছেন, তা ‘পৈশাচিক’ এবং ‘খেলোয়াড়রা কখনো বিশ্বাস হারায়নি।’ 

প্রথম লেগে ঘরের মাঠেই ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল পিএসজি। গতকাল ম্যাচের ১২ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল। ঘরের মাঠে বার্সেলোনা ২ গোলের অগ্রগামিতা পেয়ে গেছে, এমন অবস্থায় অনেক দলই হাল ছেড়ে দিত। 

কিন্তু গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিল পিএসজি। প্রথম তিন মিনিটেই এমবাপ্পে, দেমবেলে ও ভিতিনিয়াকে আটকাতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে দুটি শট ঠেকাতে হয়েছে। ধাক্কা সামলে বার্সেলোনা প্রথম যে সুযোগ পেয়েছে তাতেই গোল।

১২ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল প্রায় একাই বল টেনে নিয়ে চলে যান গোললাইনের কাছে। তাঁর পাস থেকে শুধু বল লাগাতে হয়েছে রাফিনিয়াকে। 
কিন্তু ২৯ মিনিটে সর্বনাশ হয়ে গেল বার্সেলোনার। এমবাপ্পের বিকল্প হিসেবে  কেনা বারকোলাকে আটকাতে ফাউল করেন বসেন আরাউহো। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে অমন ফাউলে লাল কার্ড। এক ডিফেন্ডারের অভাব পূরণ করতে দলের সেরা অস্ত্র ইয়ামালকে তুলে নিয়ে ইনিগো মার্তিনেসকে নামান শাভি। 

কিন্তু আক্রমণ বিসর্জন দিয়ে রক্ষণ বাড়িয়েও পিএসজির আক্রমণ ঠেকানো যায়নি। এমবাপ্পের একটি শট ঠেকিয়েছেন টের স্টেগেন। দুই উইংয়ে দেমবেলে ও বারকোলা সমস্যায় ফেলে দিচ্ছিলেন। সাবেক দলের বিপক্ষে প্রতি মুহূর্তে দুয়ো শুনেও দেমবেলে যেমন খেলছিলেন তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। 

৪০ মিনিটে এই দুজন মিলেই ম্যাচে সমতা ফেরালেন। বাঁ প্রান্ত থেকে বারকোলার পাস থেকে দেমবেলে ডান পোস্ত ঘেঁষে জোরালো শটে প্রথমার্ধেই ম্যাচে প্রাণ ফেরালেন। একটু পরই এগিয়ে যেতে পারত পিএসজি। ভিতিনিয়ার শট বারের ওপর দিয়ে গেছে। বারকোলার শট গেছে পাস দিয়ে। দেমবেলেও পারেননি বল পোস্টে রাখছে।

৫৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ভিতিনিয়ার শট অবশেষে পিএসজিকে গোল এনে দিল। একটু পর গুনদোয়ানের শট পোস্টে লেগে হতাশ করেছে বার্সেলোনাকে। আর ৬১ মিনিটে সে হতাশা দ্বিগুণ করেছেন দেমবেলে। তাঁকে আটকাতে গিয়ে পেনাল্টি দেন কানসেলো। পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পে ব্যবধান ৩-১ করেন। দুই লেগ মিলিয়েই তখন এগিয়ে পিএসজির। 

বার্সেলোনা তবু আশা ছাড়েনি। লেভানদফস্কি, রাফিনিয়ারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, যেকোনো মুহূর্তে ‘রেমন্তাদা’র জন্ম দেবে বার্সেলোনা। কিন্তু হঠাৎ বল নিয়ে ছুটলেন হাকিমি। একটু পর এমবাপ্পের গোল আর এক ছুট দিয়ে মাঠে হাজির হওয়া তিন হাজার পারিসিয়ানের সামনে গিয়ে উদযাপন। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার হতাশার গল্পে যুক্ত হলো আরেকটি অধ্যায়।