ম্যাচ শুরু হতে তখনো কিছু সময় বাকি। গ্যালারিতে থাকা এক তরুণ চেলসি সমর্থকের ওপর ওপর পড়ল টিভি ক্যামেরা। হাতে একটি প্লে-কার্ড নিয়ে এসেছেন ওই চেলসি সমর্থক। সেখানে লেখা, ‘আমি তোমার জার্সি চাই না। আমি চাই, তোমরা আমাদের হয়ে লড়াই কর।’
কিন্তু গতকাল প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে আর্সেনালের বিপক্ষে লড়াই তো দূরের কথা, দাঁড়াতেই পারল না চেলসি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। গত দুই মৌসুমে ইউরোপের দলবদলে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয় করেছে চেলসি। তবু দলের এই হালে কোচ পচেত্তিনোর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কাল নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে গুনে গুনে পাঁচ গোল খাওয়ার পর সে শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে চেলসির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠল আর্সেনাল। দুইয়ে থাকা লিভারপুল এক ম্যাচ কম খেলে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে চার পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে তিনে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য দুটি ম্যাচ কম খেলেছে। নিজেদের হাতে থাকা ম্যাচ দুটি জিতলে শীর্ষে চলে যাবে গার্দিওলার শিষ্যরা।
শেষ পর্যায়ে এসে লিগ শিরোপার নিয়ন্ত্রণ তাই ম্যান সিটির হাতে। কিন্তু চেলসির বিপক্ষে এমন বড় জয়ে আর্সেনাল যেন বার্তা দিয়ে রাখল, কোনো কারণে সিটি পা হড়কালে শিরোপা ধরতে প্রস্তুত তারা।
এমিরেটসে গতকাল ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে আর্সেনাল। মাত্র চার মিনিটে এর ফলও পেয়ে যায় দলটি। ডেকলান রাইসের পাস থেকে বাম পায়ের জোরালো শটে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন লিয়ান্দ্রো ট্রসার।
এক গোলে এগিয়ে মন ভরেনি স্বাগতিকদের। একের পর এক আক্রমণের ঢেউ চালাতে থাকে চেলসির সীমানায়। কিন্তু পচেত্তিনোর শিষ্যদের জমাট রক্ষণে ১-০ গোলের লিগ নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় আর্সেনালকে।
বিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মন্ত্র জপে আর্সেনালকে মাঠে পাঠান আরতেতা। সে মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মরণ কামড় দেন বেন হোয়াই-কাই হাভার্টসরা। যার ফল উঠে এসেছে স্কোরবোর্ডে। তবে নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে চেলসি গোলকিপার পেত্রভিচকে একা পেয়েও গোল মিস করেছেন গ্যাবরিয়েল মার্তিনেল্লি। এটি হলে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের বড় পরাজয়ের লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসত চেলসির। এর আগে ২০১৯ সালে ম্যানসিটির বিপক্ষে ৬-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল দলটি।
প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড না হলেও আর্সেনালের বিপক্ষে লজ্জার রেকর্ড গড়া হয়েছে চেলসির। এর আগে ১৯৩০ সালে আর্সেনালের কাছে ৫-১ গোলে হেরেছিল চেলসি। এতদিন গানার্সের বিপক্ষে এটি ছিল চেলসির সবচেয়ে বড় পরাজয়। গতকাল ৫-০ গোলে হেরে রেকর্ডটি নিজেদের করে নিয়েছে পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
গতকাল এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া আর্সেনালের দ্বিতীয়ার্ধের আক্রমণগুলো ছিল আরও বেশি পরিণত। প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের নেওয়া ১৩ শটের মাত্র ৩টি ছিল লক্ষ্যে। যেখানে দ্বিতীয়ার্ধে নেওয়া ১৪ শটের ৭টিই ছিল চেলসির গোলপোস্ট বরাবর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাইসকে গোল বঞ্চিত রাখেন পেত্রভিচ। কিন্তু বেশিক্ষণ আর্সেনালের আক্রমণ সামলাতে পারেননি চেলসির সার্বিয়ান গোলকিপার। ম্যাচের ৫২ মিনিটে দূরের পোস্ট দিয়ে কোনাকুনি শটে পেত্রভিচকে পরাস্ত করেন বেন হোয়াইট।
৫৭ মিনিটে লম্বা করে বাড়ানো মার্টিন ওডেগোরের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চেলসির দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কাই হাভার্টস। ৮ মিনিট পরে দলের চতুর্থ ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখা পান জার্মান ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৭০ মিনিটে চেলসির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন হোয়াইট। শেষদিকে চেষ্টা করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি চেলসি।
এ পরাজয়ে ৩২ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৯ম স্থানে পচেত্তিনোর দল। পাশাপাশি পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার সকল আশাও শেষ হয়েছে চেলসির।