কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নাসের আল খেলাইফির সম্পর্ক কখনোই খুব একটা বন্ধুত্বসুলভ ছিল না। ২০২২ সালে চোখ কপালে তোলা এক চুক্তিতে এমবাপ্পেকে ধরে রাখতে পারলেও পারি সাঁ জার্মেইয়ের সভাপতির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি ফুটবলারের।
প্রকাশ্যে গত সপ্তাহে জানালেও ক্লাবকে গত ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ফ্রেঞ্চ অধিনায়ক। বলে দিয়েছেন, সাত বছরেই শেষ হচ্ছে পিএসজি পর্ব। অহমের লড়াইয়ে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি খেলাইফি। দুজনের মধ্যে এরপর আর কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না। গতকাল চূড়ান্ত বিচ্ছেদও হয়ে গেল। লা পারিসিয়েন জানিয়েছে পিএসজির ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে সভাপতির সঙ্গে একচোট হয়ে গেছে এমবাপ্পের।
খেলাইফির সঙ্গে সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে গেছে, তা গত শুক্রবার বোঝা গেছে। নিজের দীর্ঘ বিদায়ী বার্তায় ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রায় সবাইকে। বর্তমান ও সাবেক কোচ, সমর্থক, ক্রীড়া পরিচালক তো বটে, ক্লাবের অন্য কর্মচারীরাও ভাগ পেয়েছেন ধন্যবাদের। কিন্তু পুরো ভিডিওতে একবারও খেলাইফির নাম উচ্চারণ করেননি। এমনকি যার ইচ্ছায় ২০২২ সালে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে লোভনীয় চুক্তি দেওয়া হয়েছিল এমবাপ্পেকে, সেই কাতারের আমিরের নামও শোনা যায়নি ফরোয়ার্ডের বক্তব্যে।
লা পারিসিয়েন বলছে গতকাল পার্ক দে প্রিন্সেসে মাঠে নামার আগে তাই এমবাপ্পেকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন খেলাইফি। লোকচক্ষুর আড়ালে একটি রুমে দেখা করলেও তাদের আলোচনার ফল সবাই টের পেয়ে গেছেন। পারিসিয়েনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঝগড়া শব্দে দেয়াল কেঁপে উঠেছিল।
ঝগড়ার কারণে স্বাভাবিক সময়ের চার মিনিট পর মাঠে নেমেছিলেন পিএসজির খেলোয়াড়রা। এমবাপ্পের বিদায়কে রাঙানোর কোনো ব্যবস্থা ক্লাব করেনি। ম্যাচের আগে দুয়ো শুনিয়েছেন সমর্থকেরা। তবে কড়া সমর্থকেরা তাঁর বিশাল এক ব্যানার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পিএসজি বিবৃতি পাঠিয়ে জানিয়েছে দুজনের মধ্যে মিটিং হলেও কোনো ঝগড়া বা তর্ক হয়নি। তবে পারিসিয়েন বলেছে, তারা নিশ্চিত জানেন যে দুজনের মিটিং উত্তপ্ত ছিল।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি খেলাইফিকে এমবাপ্পে জানিয়ে দেন, বর্তমান চুক্তি আর নবায়ন করবেন না এবং এই মৌসুম শেষেই তিনি বিদায় নিচ্ছেন। মৌসুমের শুরু থেকেই অবশ্য এমবাপ্পে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে তাঁর অবস্থা জানিয়েছিলেন। এ কারণে শাস্তি হিসেবে তাঁকে বাদ দিয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির সফর করেছিল পিএসজি। খেলাইফি তবু আশায় ছিলেন, ২০২২ সালের মতো এবারও মত পরিবর্তন করবেন এমবাপ্পে। কিন্তু তা হয়নি বলেই ক্ষেপেছেন তিনি।