চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩২ দল খেলে, শেষে রেয়াল মাদ্রিদই জেতে

চিত্রপট একই, শুধু কুশীলব ভিন্ন। চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল সাক্ষ্য দেবে, ওয়েম্বলিতে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে যে দু:স্বপ্ন উপহার পেয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, একই দু:স্বপ্ন রেয়াল মাদ্রিদ তাদেরও উপহার দিয়েছিল!

চিত্রনাট্যটা কী? রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রতিটি দলই এত এত সুযোগ পেয়েছিল যে, সেগুলো নিতে পারলে রেয়াল মাদ্রিদের জন্য ভীষণ হতাশার এক গল্প হতো। কিন্তু তারা তা নিতে পারল না, শেষে এসে বারেবারে 'ওস্তাদ' হয়ে যায় রেয়াল মাদ্রিদ।

ওয়েম্বলিতেও আজ গল্পটা একই! গল্পের শেষে যেখানে রেয়াল মাদ্রিদের আরও একটি  চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার উল্লাস থাকল। ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ১৫তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ঘরে নিয়ে গেল মাদ্রিদ। টুর্নামেন্টটার নাম 'রেয়াল মাদ্রিদ লিগ' রেখে দিলেই হয়!

না হলে মাদ্রিদের এভাবে শিরোপা জেতার কারণ কী? ৭০ মিনিটের মতো সময়টুকুতে ডর্টমুন্ডই খেলল, প্রথমার্ধে তো মাদ্রিদ নামে যে কোনো দল আছে তা বোঝাই গেল না। শুধু ২১ মিনিট থেকে ২৮ মিনিটের মধ্যেই তিনটি নিশ্চিত গোল হাতছাড়া করেছে ডর্টমুন্ড। কোর্তোয়া না থাকলে প্রথমার্ধে মাদ্রিদের কপালে লজ্জাই থাকত!

সেই মাদ্রিদই দ্বিতীয়ার্ধে কারভাহাল আর ভিনিসিয়ুসের গোলে শিরোপায় ভাসল। আরেকবার। ১৫তম বার। 

৭৪ মিনিটে কারভাহালের গোলটি কর্নার থেকে হেডে। ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের গোল তো ডর্টমুন্ডই গড়ে দিয়েছে - ডর্টমুন্ড বক্সের সামনে তাদেরই লেফটব্যাক ইয়ান মাটসেন ভুল করে পাসটা তুলে দেন বেলিংহ্যামের পায়ে। তাঁর পাস ধরে গোল করতে ভিনিসিয়ুসের সমস্যাই হলো না!

এদিন তেরজিচের অধীনে ডর্টমুন্ডের এই দলটা ভয়ংকর ক্ষিপ্র, পিএসজি সেটা আগের রাউন্ডেই টের পেয়েচে। তবু, ফাইনালে।আজ তাদের বিপক্ষে শুরুতে হাইলাইন ডিফেন্স রেখে নামে মাদ্রিদ। তার ফলই শুরুতে পেল তারা। বারেবারেআদ্রিদের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন মাটসেন, আদেয়েমিরা।

এই আদেয়েমিই করলেন ম্যাচে ডর্টমুন্ডের প্রথম মিস! ২১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হুমলসের অসাধারণ থ্রু ধরে কোর্তোয়াকে একা পেয়ে যান আদেয়েমি, কিন্তু শট না মেরে কোর্তোয়াকে কাটাতে যাওয়ার মাশুল দিলেন মিস করে।

দুই মিনিট পর ফুলক্রুগের শট ফিরে এল পোস্টে লেগে, তার পাঁচ মিনিট পর আবার আদেয়েমির অবিশ্বাস্য মিস! এবার পালটা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে ব্রান্টের দারুণ থ্রু, এবার আদেয়েমি শট নিলেও তা কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেন। ফিরতি শটে হেড করার চেষ্টায় লাফিয়ে উঠে ফুলক্রুগ বুঝলেন, বলটা তাঁর মাথা থেকে একটু দূরত্বেই আছে!

দর্শক আসনে বসা ইয়ুর্গেন ক্লপের তখন হয়তো ২০২২ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের স্মৃতি ভাসছিল। সেবারও চূড়ান্ত দাপট দেখিয়েও যে লিভারপুল হেরে গিয়েছিল রেয়াল মাদ্রিদেরই কাছে।

কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য এত ভাবাভাবিতে যাননি। প্রথমার্ধে দল বেশি ওপরে উঠে খেলতে গিয়ে ধুঁকেছে, দ্বিতীয়ার্ধে মাদ্রিদ খেলল প্রায় ১৫-২০ গজ নিচে নেমে। অর্থাৎ, মাদ্রিদের হাইলাইন ডিফেন্স আর থাকেনি,  ডর্টমুন্ডের দাপটও তাতে খর্ব হয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইটা সমানে সমানই হচ্ছিল, এর মধ্যে ৭৪ মিনিটে মাদ্রিদের ডিএনএ ভর করল কারভাহালের ওপর। যে সেট পিস ডর্টমুন্ডের শক্তি বলে ভাবা হচ্ছিল, সেই সেটপিস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দিলেন মাদ্রিদ রাইটব্যাক।

মাদ্রিদ গোল পাওয়ার পরই তেড়েফুঁড়ে উঠল মাদ্রিদ, রক্তের ঘ্রাণ পাওয়া বাঘের মতোই আর কী! এর ফলও এসে গেল ৮৩ মিনিটে। মাদ্রিদের প্রেসিংয়ের মুখে হিসাবে ভুল করে বলটা নিজেদের বক্সের সামনেই বেলিংহ্যামের পায়ে তুলে দিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাও।

সামনের দুই ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে এনে বাঁ পাশে উঠতে থাকা ভিনিসিউসকে পাস দিলেন বেলিংহ্যাম, ভিনি 'ওজিল' হয়ে কামড়ানো শটে বল জড়ালেন জালে। কে বলবে, এই ভিনিই গত দুদিন জ্বরে ভুগেছেন!

অবশ্য প্রথমার্ধের মাদ্রিদকে দেখে তাদের হাতে শিরোপাই-বা কজন ভেবেছিলেন! শিরোপামঞ্চে তো জিনেদিন জিদানের হাত থেকে ট্রফিটা ঠিকই মাদ্রিদের সাদা কনফেত্তিতে মিশে গেল!