যেখানে নিশ্বাসই থেমে গিয়েছিল, ১১০০ দিন পর সে মঞ্চে ফিরে লিখলেন নতুন গল্প

জীবনের গল্প কখনো কখনো সিনেমাকেও হার মানায়, ছাড়িয়ে যায় কল্পনার সীমারেখা। সে গল্পে যেমন দুঃসহ স্মৃতি থাকে, তেমনি থাকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। আর এর সবটা একসঙ্গে করলে যে নামটা ভেসে ওঠে, সেটা বোধ হয় ক্রিস্তিয়ান এরিকসেনেরই হবে!

সর্বশেষ ইউরোয় পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এরিকসেনের ঘটনা। কোভিডের কারণে ২০২০ ইউরো অনুষ্ঠিত হয়েছিল পরের বছর। টুর্নামেন্টে ডেনমার্ক প্রথম ম্যাচটা খেলতে নেমেছিল ২০২১ সালের ১২ জুন। কোপেনহেগেনে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৪২ মিনিটে আকস্মিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ডেনিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এরিকসেন।

কী এক ভয়াবহ অবস্থা! মাঠেই খেলোয়াড়েরা চারপাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলেন, যাতে চিকিৎসায় গোপনীয়তার ত্রুটি না হয়। মাঠে সিপিআর দেওয়া হয় তাঁকে, তার কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফেরে এরিকসেনের। এরপর আরও উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এরিকসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এরিকসেন। এরপর তাঁর বুকে আইসিডি (ইমপ্লান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডেফিব্রিলেটর) লাগানো হয়।

ডেনমার্ক দলের চিকিৎসক মর্টেন বোয়েসেন পরে ওই মুহূর্তটা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি সরাসরি (এরিকসেনকে পড়তে) দেখিনি, তবে এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে ওর জ্ঞান ছিল না। আমি যখন ওর কাছে গেলাম, দেখলাম, ও কাত হয়ে আছে। নিশ্বাস তখনো চলছিল, পালসও পাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ সব বদলে গেল। সে কারণেই ওকে সিপিআর দেওয়া শুরু করি, সেটা তো সবাই দেখেছে।’

হাসপাতাল থেকে এরিকসেন কয়েকদিন পরই ছাড়া পেলেও সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, আর কখনো মাঠে দেখা যাবে না এ মিডফিল্ডারকে। তবে প্রাথমিক সে অনুমান ভুল প্রমাণিত করে এরিকসেন ফিরেছেন। অংশ নিয়েছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপেও। এছাড়া ক্লাবের হয়েও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাবর্তন বিশেষ কিছুই হওয়ার কথা এরিকসেনের কাছে। কোপেনহেগেনের সেই ঘটনার ১১০০তম দিন ছিল গতকাল। যেখানে সময় থমকে গিয়েছিল, সেই ইউরোর মঞ্চে গতকাল দারুণ গোলে প্রত্যাবর্তনটা রাঙিয়েছেন এরিকসেন।

তবে এরিকসেনের গোলে এগিয়ে গেলেও ম্যাচটা জিততে পারেনি ডেনমার্ক। গতকাল ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে স্লোভেনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে ডেনিশরা।

এরিকসেনের কল্যাণে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল ডেনমার্ক। বলের দখল কিংবা আক্রমণ, সব জায়গাতেই এগিয়ে ছিল কাসপার ইউলমান্দের দল। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে ৭৭ মিনিটে এরিক ইয়ানসার গোলে সমতায় ফেরে স্লোভেনিয়া।

ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন ইউরো প্রত্যাবর্তনে গোল করা এরিকসেন। নিজে গোল পেলেও দল না জেতায় কিছুটা হতাশ ম্যান ইউনাইটেড তারকা, ‘গোল করতে পেরে ভালো লাগছে। ভালো সময়ে গোলটি এসেছিল। সেট-পিস থেকে গোল করার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। গোলটাও সেভাবেই করলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওরাও গোল করল।’