ফ্রান্স পড়েছে বেশ দুশ্চিন্তায়। ইউরোতে প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটা হেড করতে গিয়ে সংঘর্ষে নাক ভেঙে গেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের। তাঁকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরের ম্যাচে পাবে কি না ফ্রান্স, সে নিয়ে সংশয় আছে।
তবে অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর প্রথমে যখন জানা গিয়েছিল যে, এমবাপ্পের অস্ত্রোপচারের দরকার হবে না, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন ফ্রান্স ও রেয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। কদিন আগে রেয়াল মাদ্রিদে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলা এমবাপ্পে কাগজে-কলমে মাদ্রিদের হয়ে যাবেন ১ জুলাই থেকে, তাঁকে পেতে মুখিয়ে থাকা মাদ্রিদ সমর্থকদের তাই অস্ত্রোপচার না লাগার খবরে স্বস্তি না হয়ে পারে না!
কিন্তু আজ আবার ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁর দেওয়া এক খবরে রেয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের উত্তেজনায় ভাটা পড়ার কথা। দেশঁ জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার দরকার হবে এমবাপ্পের, সেটি করা হবে ইউরোর পর।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে হেড করতে গিয়ে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার কেভিন দানসোর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এমবাপ্পের। নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। তখন তো সংশয় ছিল, এমবাপ্পের ইউরোই বুঝি শেষ হয়ে গেছে।
তবে সেদিন ম্যাচের পর দেশঁ জানান, অস্ত্রোপচার লাগবে না। এমবাপ্পেও ম্যাচ শেষে টুইটে মজা করে লিখেছেন, ‘মাস্কের ব্যাপারে কেউ কোনো পরামর্শ দিতে পারেন?’ বোঝা যাচ্ছিল, মাস্ক পরেই নামবেন এমবাপ্পে। তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে ফ্রান্স নামানোর ঝুঁকি নেবে না বলেই শোনা গিয়েছিল তখন। এমনকি দরকার না পড়লে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকারকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল ফরাসি সংবাদমাধ্যমে।
কিন্তু ফ্রান্স কী করবে না করবে সেটা ফ্রান্সের ব্যাপার, আপাতত আজ রেয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের মন খারাপ হওয়ার জোগাড়! স্প্যানিশ দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো লিখেছে, গতকাল এমবাপ্পের অস্ত্রোপচার লাগবে না জানানো হলেও আজ দেশঁ এমবাপ্পের ‘আপডেট’ দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, এমবাপ্পের চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচার লাগবে। তবে সেটা করা হবে ইউরোর পর।
‘অস্ত্রোপচার এখনই করানো না হলেও টুর্নামেন্টের পর ওকে সেটা করাতেই হবে। আজ সকালে ও আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে, দেখা যাক কী হয়। প্রতিদিনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি আমরা’ – আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন দেশঁ।
ইউরোর পর ছুটি কাটিয়ে রেয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল এমবাপ্পের। কিন্তু এখন ইউরোর পর অস্ত্রোপচার মানে সেটির ধকল কাটিয়ে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে রেয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ফিরতেই দেরি হওয়ার শঙ্কা।
এরপর ফিটনেস ফিরে পেয়ে মাঠে নামতে নামতে আরও কত দিন লাগবে! মাদ্রিদ সমর্থকদের মন খারাপ না হয়ে পারে না।