ইউরোর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় ইতালির ফুটবল ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বাজে দলের’

এবারের ইউরোতে গ্রুপ পর্বে ঠিক ছন্দে ছিল না ইতালি। প্রথম ম্যাচে আলবেনিয়ার বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানো জয় পেলেও পরের ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে বসে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়না। শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র করেও গ্রুপে রানার্স আপ হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল লুসিয়ানো স্পালেত্তির শিষ্যরা।

নক আউটে ভিন্ন ইতালির দেখা মিলবে, এমন আশাতে হয়তো বুক বেঁধেছিলেন দলটির সমর্থকেরা। ইউরোর পরিসংখ্যানও তো তেমন কথাই বলছিল। এ টুর্নামেন্টে ২০০৪ সালের পর থেকে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে আজ্জুরিরা। এছাড়া শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, যাদের বিপক্ষে ১৯৯৩ সালের পর থেকে কখনোই হারেনি ইতালি।

কিন্তু গতকাল সব হিসাব-নিকাশ বদলে গিয়ে ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরোর শেষ ষোলো থেকে বিদায় করেছে সুইজারল্যান্ড। সেইসঙ্গে দারুণ একটি ইতিহাসও লেখা হয়েছে সুইসদের। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে টাইব্রেকার ছাড়া এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড।

গতকাল ম্যাচ জুড়েই সুইসদের কাছে পাত্তা পায়নি ইতালি। এমনকি পুরো সময়ে সুইসদের গোল বরাবর মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে আজ্জুরিরা। এমন ছন্নছাড়া ইতালিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে দল বলে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার।

বিবিসি ওয়ানে লিনেকার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না, আমার জীবদ্দশায় ইতালির এর চেয়ে বাজে দল দেখেছি।’

সর্বশেষ ইউরোতে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতেছিল ইতালি। তিন বছরের ব্যবধানে তারাই কিনা বিদায় নিল আরেকটা ইউরোর শেষ ষোলো থেকে। ইতালির এমন ছন্দপতনে অবাক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারও।

তিনি বলেছেন, ‘তিন বছর আগের ইতালি থেকে আজকের এ দল- এটা অবিশ্বাস্য। ইতালি এতটাই বাজে খেলেছে, এটা সত্যিই আমাকে হতবাক করেছে। কোনো পজিশনেই ইতালিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুইজারল্যান্ড ওদের নিয়ে রীতিমতো খেলেছে।’