ইতালির ফুটবল এখন অনেকটাই টালমাটাল। আর সেটার মূল কারণ টানা তৃতীয়বারের মতো ইতালির বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থতা। দুদিন আগে প্লে-অফের ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হেরে বন্ধ হয়ে যায় ইতালির বিশ্বকাপ খেলার পথ।
সেটার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গাব্রিয়েল গ্রাভিনা। সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় দলের ডেলিগেশন প্রধান জিয়ানলুইসি বুফন। কোচ জেনারো গাত্তুসোর ভবিষ্যৎও অনেকটাই অনিশ্চিত।
এমন অবস্থার মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার ‘হুমকি’ পেয়েছে ইতালি। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন জানিয়েছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরোর আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে ইতালি।
গতকাল বৃহস্পতিবার লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্তে সেফেরিনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে ইতালির স্টেডিয়ামগুলোকে ‘ইউরোপের সবচেয়ে বাজে’ হিসেবে উল্লেখ করেন সেফেরিন।
উয়েফা সভাপতি বলেছেন, ‘২০৩২ ইউরো নির্ধারিত সময়েই হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি, ইতালির অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি সেটা না হয়, তাহলে এই টুর্নামেন্ট ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না।’
সেফেরিন যোগ করেন, ‘সম্ভবত ইতালির রাজনীতিবিদদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, কেন তাদের ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছে।’
সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক’।
উল্লেখ্য, ২০৩২ ইউরো তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করার কথা ইতালির। আর সে লক্ষ্যে আগামী অক্টোবরের মধ্যে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ইতালিকে ৫টি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। এদিকে ইউরোর ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটির ১১টি শহর- রোম, ফ্লোরেন্স, বোলোনিয়া, মিলান, জেনোয়া, বারি, নেপলস, তুরিন, ক্যালিয়ারি ও পালের্মো। এর মধ্যে ইউভেন্তুসের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটিই ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
তবে ইতালি যেমন নতুন স্টেডিয়াম দেখাতে পারে, তেমনি পুরোনো স্টেডিয়াম সংস্কারের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারে ইউরোর কাছে। কিন্তু সেই কাজ অবশ্যই ২০২৭ সালের মধ্যে শুরু হতে হবে।


বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থতা, পদত্যাগ করলেন ফেডারেশন প্রধান
