রূপকথায় বিশ্বাস না করে ইতিহাসের দরজা খুলতে চান তিনি

আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয় তাদের, অথচ ১৯৬৬ এর বিশ্বকাপ ছাড়া বলার মতো আর কোনো সাফল্য নেই ইংল্যান্ডের। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অবস্থা আরও করুণ। ছেলেদের টুর্নামেন্টে শিরোপা তো দূরে থাক, ২০২০ সালের আগে ফাইনালেই উঠতে পারেনি কখনো।

সর্বশেষ ইউরোতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ঘরের মাঠে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল গ্যারেথ সাউথগেটের দলের।

দীর্ঘ শিরোপা খরা ঘোচানোর আরেকটা সুযোগ সামনে এসেছে ইংলিশদের সামনে। সাউথগেটের অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছেন হ্যারি কেইনরা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আজ রাতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।  

১৯৯৬ ইউরো আয়োজিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। সে সময় ইংল্যান্ড দলের সেন্টারব্যাক একজন ছিলেন সাউথগেট। কিন্তু ঘরের মাটিতে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে হেরে সেবারও হৃদয় ভেঙেছিল ইংলিশদের। ফাইনালে চেক রিপাবলিককে হারিয়ে শিরোপাও উদযাপন করেছিল জার্মানরা।

স্পেনকে হারিয়ে জার্মানি থেকে শিরোপা নিয়ে আসা রূপকথার মতো মনে হতে পারে ইংলিশ কোচের কাছে। কিন্তু ফাইনালের মহারণের আগে সাউথগেট জানালেন, তিনি রূপকথায় বিশ্বাসী নন। ফাইনালে যাই হোক, তা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি।  

সংবাদ সম্মেলনে সাউথগেট বলেছেন, ‘আমি রূপকথায় বিশ্বাসী নই। তবে স্বপ্নে বিশ্বাসী। আমরা বড় স্বপ্ন দেখেছি। এর গুরুত্বটাও অনুভব করছি। কিন্তু আমাদের সেটা (বাস্তবে) ঘটাতে হবে। আমরা যেভাবে এসেছি, শেষ মুহূর্তের গোল, পেনাল্টি- এগুলো আমাদের স্বপ্ন হতে পারে না। আমাদের আগামীকাল পারফর্ম করতে হবে এবং সেটা (ইতিহাস) সৃষ্টি করতে হবে।’

তবে কাজটা মোটেও সহজ হবে না সাউথগেটের দলের জন্য। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে স্প্যানিশ বাধা পেরোতে হবে। শুধু তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তবে সাউথগেটের বিশ্বাস, তাঁর দলই নতুন ইতিহাস লিখবে। ইংল্যান্ড কোচের ভাষায়, ‘এটা দারুণ একটা গল্প হবে এবং এটা (নিয়ন্ত্রণ) আমাদের হাতেই আছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পারফরম্যান্স।’

এর আগে ঘরের মাঠে ১৯৯৬ ইউরোর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হারা ম্যাচে পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাউথগেট। কোচ হিসেবে ঘরের মাঠে আরেকটা (২০২০) ইউরোতেও ডাগআউট দলকে টাইব্রেকারে হারতে দেখেছেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড বাদ পড়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।

এরপরও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে এসেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু গ্রুপ পর্বে মাত্র একটা ম্যাচে জয় পায় সাউথগেটের দল। শেষ ষোলোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রায় বিদায় ঘণ্টা বাজতে যাচ্ছিল। জুড বেলিংহামের শেষ মুহূর্তের গোল ও অতিরিক্ত সময়ে কেইনের কল্যাণে সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইংলিশরা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকার ভাগ্য মুখ তুলে তাকিয়েছে সাউথগেটের দিকে। এরপর শেষ চারে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপার নিশ্বাস দূরত্বে এসেছে সাউথগেটের দল।

এমন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এসে ফাইনালের ফল নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন সাউথগেট। স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ আরও বলেছেন, ‘স্পেনের বিপক্ষে কী হবে, এ নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত নই। কারণ আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমি চাই, খেলোয়াড়রা ভয়ডরহীন ফুটবল খেলুক। ওরা ওদের সেরাটা দিয়ে খেলুক। ফলাফল যাই হোক, দেখাতে চাই, আমরা দল হিসেবে খুব শক্তিশালী।’