রোনালদোকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১০ বছরের অপেক্ষা ফুরালেন এমবাপ্পে 

২০১৪ সালেই রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক ফরোয়ার্ডকে মাদ্রিদের সুযোগ-সুবিধা ঘুরিয়ে দেখানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্বয়ং জিনেদিন জিদান। আদর্শ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও দেখা করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব দেখেশুনেও মাদ্রিদ একাডেমিতে যোগ দেওয়া হয়নি তাঁর।

কারণ, অত তাড়াতাড়ি ভিন্ন কোনো দেশে এমবাপ্পেকে খেলতে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না বাবা-মার। এরপরও হাল ছাড়েনি মাদ্রিদ। বহুবার চেষ্টা চালিয়েছে। কখনো খেলোয়াড় নিজে, কখনো তাঁর ক্লাব আর কখনো স্বয়ং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দলবদলটা আটকে দিয়েছেন। 

এমবাপ্পে আজ সব বাধা পেরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁকে দেখতে বার্নাব্যুতে আজ হাজির হয়েছিলেন ৮৫ হাজার সমর্থক। নিজের প্রতি ভালোবাসা গায়ে মাখতে মাখতেই আদর্শ রোনালদোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পে।  

২০১৪ সালের কিশোর এমবাপ্পে নজর কাড়তে বেশিদিন সময় নেননি। ২০১৬ সালে পেশাদার ফুটবলে আবির্ভাব, সেবারই চমক। মোনাকোকে লিগ জিতিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগেও সেমিফাইনালে চলে গিয়েছিলেন। এমবাপ্পেকে আবার টানার চেষ্টা চালিয়েছে মাদ্রিদ। কিন্তু আবারও মাদ্রিদকে না বলে দিয়েছেন এমবাপ্পে।

পিএসজিতে যাওয়া এমবাপ্পের জন্য মাদ্রিদ এরপরও চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ২০২১ সালে একবার চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু ২০ কোটি ইউরোর বিনিময়েও তাঁকে ছাড়তে রাজি হয়নি পিএসজি। ২০২২ সালে মুফতেই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। পরে জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ নিজেই এই দলবদল আটকানোয় ভূমিকা রেখেছেন।

এবার আর কোনোভাবেই তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি পিএসজি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রিদের জার্সি পরেছেন এমবাপ্পে। এবং আদর্শ রোনালদো যেমন মাদ্রিদে এসে নয় নম্বর জার্সি পরেছিলেন, তাঁকেও সে জার্সি দেওয়া হয়েছে। 

আজ স্বপ্নপূরণের পর এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমি জানতাম এই মুহূর্ত আসবে। আমার জন্য রেয়ালই একমাত্র বিকল্প ছিল। অন্য ক্লাবের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু আমি সবসময় বলেছি: প্যারিস ছাড়লে শুধু রেয়াল মাদ্রিদেই যাব।’

আজ নিজের পরিচয় পর্ব এমবাপ্পে শেষ করেছেন রোনালদোকে স্মরণ করিয়ে। ২০০৯ সালে রোনালদো নিজের পরিচয় পর্বে বলেছিলেন, ‘উন, দস, ত্রেস, আলা মাদ্রিদ’ (এক, দুই, তিন, মাদ্রিদের জয় হোক)। আজ এমবাপ্পেও সেটা করেছেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘পরিচয়পর্বের শেষে “উন, দস, ত্রেস, আলা মাদ্রিদ” বলাটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে উদ্দেশ্য করে। উনি একজন বন্ধু, যিনি এই ক্লাবে ইতিহাস গড়েছেন। আমাকে সবসময় খেলা ও নিজের ভালোবাসার সঙ্গে থাকার ক্ষমতার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।’

এমবাপ্পেকে দেখতে আজ ৮০ হাজারের বেশি মাদ্রিদ সমর্থক হাজির হয়েছিলেন। এর আগে শুধু রোনালদোকে দেখতেই এত দর্শক এসেছিলেন। 

এমবাপ্পে তাই অভিভূত, ‘আমি এখনো রেয়ালে কেউ না, আমি এখনো একটা ম্যাচও খেলিনি। এখনো কিছু না করার পরও এমন অভ্যর্থনা দুর্দান্ত। সমর্থকদের ধন্যবাদ। আমি মাঠে দেখাতে চাই আমি কী করতে পারি। শিরোপা জেতার জন্য এর চেয়ে ভালো ক্লাব হয় না। আমি যদি মানিয়ে নিতে পারি, সবকিছু দারুণ চলবে। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মনোযোগ দেব, এটাই আমার এক নম্বর লক্ষ্য।’