ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সবসময় আদর্শ মেনেছেন। তাঁর পথ ধরেই রেয়াল মাদ্রিদে হাজির হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবং রোনালদোর মতোই এমবাপ্পের পরিচয় পর্ব দেখতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ভরে গিয়েছিল গতকাল। পরিচয় পর্বে রোনালদোর মতো ‘উন, দস, ত্রেস, আলা মাদ্রিদ’ বলে আদর্শকে সম্মানও জানিয়েছেন।
একদিক থেকে রোনালদোর আবির্ভাবের সঙ্গে এমবাপ্পের আবির্ভাবের পার্থক্য আছে। রোনালদোকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে নিতে মাদ্রিদকে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে হয়েছিল। ওদিকে এমবাপ্পে এসেছেন বিনামূল্যে। পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে পেতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি মাদ্রিদকে। অথচ তিন মৌসুম আগেই ২০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব।
একদিক থেকে এই শতাব্দীর অন্যতম লাভজনক দলবদল এটি। কারণ, এখনো দলবদলের বাজারে যাকে পেতে ১৫ কোটি ইউরো খরচ করতে হবে যেকোনো দলকে। কিন্তু মাদ্রিদ আসলেই বিনামূল্যে পেয়েছে এমবাপ্পেকে?
দলবদলের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় না হলেও অন্য ক্লাব বাদ দিয়ে মাদ্রিদকে বেছে নেওয়ার পুরস্কার ঠিকই পাবেন এমবাপ্পে। প্রথমে বলা হচ্ছিল, চুক্তি সাক্ষরের বোনাস হিসেবে ১০ থেকে সাড়ে ১১ কোটি ইউরো পাবেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড। আবার কিছু মিডিয়া বলছে অঙ্কটা ১৫ কোটি ইউরো। অবশ্য একবারে নয়, চুক্তির মেয়াদে বিভিন্ন কিস্তিতে দেওয়া হবে এই অর্থ।
এর বাইরে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বেতনবাবদ বছরে দেড় কোটি ইউরো (করসহ যা ৩ কোটি ইউরো) পাবেন এমবাপ্পে। এদিক থেকে তাঁর বেতন মাদ্রিদের শীর্ষ দুই বেতনভোগী ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের সমান। তবে এর বাইরে পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসও পাবেন। তবে যাই পান না কেন, সেগুলো পিএসজিতে পাওয়া সুবিধার চেয়ে অনেক কম। কারণ, পিএসজিতে শেষ দুই বছর এর তিনগুণ বেশি বেতন নিয়েছেন এমবাপ্পে।
এক দিক থেকে এমবাপ্পে এমন কিছু পাচ্ছেন যা রোনালদোও পাননি। সেটা হলো ইমেজ সত্ত্বে ছাড়। মাদ্রিদের নিয়ম হলো, যত বড় তারকাই হোক না কেন, তাঁর ছবি স্বত্বের ৫০ ভাগ ক্লাব পায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এমবাপ্পে নাকি ইমেজ স্বত্বের ৬০ থেকে ৮০ ভাগই নিজের কাছে রাখছেন। যে অঙ্কটা তাঁর বাৎসরিক বেতনের চেয়ে অনেক বেশি।
তবু নেইমার বা এমবাপ্পেকে কিনতে পিএসজি যেখানে ২০১৭ সালেই ৪০ কোটি ইউরো ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছিল, সে তুলনায় শুধু চুক্তি সাক্ষরের বোনাসে এমবাপ্পেকে টানতে পেরে নিশ্চয় তৃপ্ত মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।