বিশ্বকাপজয়ীকে অপহরণ করে ১৭১ কোটি দাবি, বিচার শুরু ভাইসহ ছয়জনের

দুই বছর আগে পল পগবাকে অপহরণ করার এক মামলায় তাঁর ভাই ও আরও পাঁচজনের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডারকে ২০২২ সালের মার্চে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো দাবি করেছিল। বাংলাদেশি মূল্যমানে আজ যা ১৭১ কোটি টাকার বেশি।

এক সময়কার বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের কাছে পাঁচ ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়েছিল। তারা নাকি হঠাৎ দেখা করার এক প্রস্তাব তোলে, সেখানে দেখা করতে যাওয়ার পরই পগবাকে অপহরণ করা হয়। অস্ত্রধারীরা পরবর্তীদের ‘নিরাপত্তা’র প্রস্তাব দিয়ে অর্থ দাবি করেছিল।

সে হুমকির পর, ওই পাঁচজনের গ্রুপ নাকি বারবার পগবাকে ভয় দেখিয়েছে। লে পারিসিয়েন বলছে তারা নাকি বলেছে পগবা তারকা হয়ে যাওয়ার পর আর তাদের অর্থ সাহায্য করেননি এবং এ কথা বলে অর্থ চেয়েছে।

দুই বছর তদন্তের পর প্যারিস কৌঁসুলি অফিস নিশ্চিত করেছে পগবার বড় ভাই মাথিয়াস ও আরও পাঁচ ব্যক্তির শুনানি হবে।

মাথিয়াস নিজেও ফুটবলার ছিলেন। ছোট ভাই ফ্রান্সের হয়ে খেললেও মাথিয়াস ও তাঁর জমজ চাই ফ্লোরেন্টিন গিনির জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। মাথিয়াসের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ এর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মাথিয়াস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর আগে ছোটভাইকে হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন ভাইয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেবেন।

অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘সহিংসতা ও অপহরণের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ও অপকর্ম করার চেষ্টা’র অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বিচারক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই পাঁচজন ‘খেলোয়াড়কে জোর করেছিলেন’ অর্থ দেওয়ার জন্য।

পগবা জানিয়েছেন এর আগে তাদের এমনিতেই সাহায্য করতেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ওই গ্রুপের তিনজন তাঁর কাছে ৭০ লাখ ইউরো চেয়ে বসে। এরপর পগবা এই পাঁচজনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন।

দুই বিচারক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই অপহরণ ও ছিনতাই ‘অভিযুক্তরা যেমনটা বলছে, সাধারণ কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল না, বরং তথ্যগুলো ঘটনাকে অপরাধ আইনের অধীনে ফেলছে। ’

মাথিয়াস অপহরণের ওই গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, কিন্তু ‘পগবা ও তার পরিবারকে চাপ দিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো দেওয়া নিশ্চিত করতে চাপ দিয়ে’ চাঁদাবাজি  ও সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পর্ক রাখার অপরাধে অভিযুক্ত। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর-এই তিন মাস এই তদন্তে জেল খেটেছেন তিনি।

পগবা তদন্তকারীদের বলেছেন, চাঁদাবাজরা তাঁর বিরুদ্ধে উলটাপালটা কথা বলে তাঁকে হাস্যাস্পদ করার চেষ্টা করেছিল, যাতে আদালত তাঁকে গুরুত্ব না দেয়।

মাথিয়াস নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছিলেন, ফ্রেঞ্চ সতীর্থের ওপর জাদু করার জন্য ওঝা ভাড়া করেছিলেন পগবা। বলেছিলেন, নিজের পরিবারকে ত্যাগ করেছে পগবা। পগবা জানিয়েছেন, ওই গ্রুপকে তিনি ১ লাখ ডলার দিয়েছেন।

ছয়জন অভিযুক্তই দায় অস্বীকার করেছেন। তাদের দামি ওই দুই অস্ত্রধারীর শিকার তাঁরাও। পগবা অর্থ দিতে না চাওয়ায়, তাদের নাকি হামলা করেছিল ওই দুই অস্ত্রধারী। ওদিকে মাথিয়াস বলছেন, অন্যরা তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে ভাইয়ের সঙ্গে মিটমাট হয়ে গেছে তাঁর। এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেই অমন আচরণ করেছিলেন তখন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাঁকে একসময়কার সবচেয়ে দামি ফুটবলার বানালেও বর্তমানে চার বছরের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়ছেন পগবা। কাগজে-কলমে ইউভেন্তুসের  হলেও এই মিডফিল্ডার সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন এক বছর আগে। এরপর থেকেই ডোপিংয়ের অভিযোগ নিষিদ্ধ ৩১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।