ম্যাচের বয়স তখন সবে ২২ সেকেন্ড। ইত্তিহাতে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের স্তব্ধ করে ব্রেন্টফোর্ডকে এগিয়ে দেন ইওয়ান উইসা। শুরুতে পাওয়া লিড ধরে রাখতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড। নির্দিষ্ট করে বললে রাখতে দেননি আর্লিং হলান্ড। ফর্মের তুঙ্গে থাকা নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন করেছেন জোড়া গোল। তাতে ব্রেন্টফোর্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট আদায় করেছে পেপ গার্দিওলার দল।
দলের জয় নিশ্চিতের পরেও আফসোস করতে পারেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে আগের দুই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন ২৪ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। সুযোগ ছিল টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার। অল্পের জন্য সে কীর্তিতে নাম লেখাতে পারেননি তিনি। তাতেও অবশ্য রেকর্ড বইয়ে উঠেছে হলান্ডের নাম।
এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম চার ম্যাচে হলান্ডের গোল হয়ে গেল নয়টি। লিগের প্রথম চার ম্যাচে এতো গোল করতে পারেননি আর কেউ। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছিলেন ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি। সে রেকর্ড পেছনে ফেললেন ম্যান সিটি স্ট্রাইকার।
হলান্ডের রেকর্ডের দিনে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে লিভারপুল। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বসেছে অলরেডরা। ইয়ুর্গেন ক্লপ পরবর্তী আর্নে স্লট যুগে টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল লিভারপুর।
নটিংহাম অবশ্য গর্ব করতেই পারে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে কালুম হুদসন ওদোইয়ের গোলে পাওয়া জয়ে দীর্ঘ এক আক্ষেপের অবসান ঘটিয়েছে নটিংহাম। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯৬৯ সালের পর এই প্রথম লিভারপুলের ঘরের মাঠে জয় ছিনিয়ে আনল দলটি।
লিভারপুল ঘরের মাঠে দুর্গ রক্ষা করতে না পারলেও সিটি ঠিকই দুর্গ রক্ষা করেছে। শুরুতে উইসার হেডে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরতে সিটির সময় লেগেছে ১৯ মিনিট। কেভিন ডি ব্রুইনার বাড়ানো বল ধরে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ব্রেন্টফোর্ডের জালে বল জড়িয়েছেন হলান্ড।
এর ১৩ মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পান নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। সিটি গোলকিপার এদেরসনের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন হলান্ড। এতে যেমন রেকর্ড বইয়ে হলান্ডের নাম উঠেছে, তেমনি রেকর্ডে উঠেছে ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার এদেরসনের নামও। এটি সহ প্রিমিয়ার লিগে মোট চারটি গোলে সহায়তা করলেন এদেরসন। যা প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৫টি গোলে সহায়তা করে এ তালিকায় সবার ওপরে আছেন পল রবিনসন।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য হ্যাটট্রিকের খুব কাছে গিয়েছিলেন হলান্ড। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না নরওয়েজিয়ান তারকার। নইলে কী আর ৮১তম মিনিটেই পরপর তিনটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় হলান্ডের!
তবে গার্দিওলার জন্য স্বস্তির, শুরুতে গোল হজম করেও পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারা। এ জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে সিটি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে হেরে বসা লিভারপুল সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুইয়ে অবস্থান করছে।