কাজী সালাউদ্দিন-যুগের শেষ দেখছে বাংলাদেশের ফুটবল। আগের ঘোষণা থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না। মিনিট তিনেকের এই সংবাদ সম্মেলনই শেষ টেনে দিয়েছে বাফুফেতে কাজী সালাউদ্দিনের আলোচিত-বিতর্কিত ১৬ বছরের অধ্যায়ের।
কিন্তু কাজী সালাউদ্দিনের পর কে? সে প্রশ্নও গতকাল কাজী সালাউদ্দিনের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই বাতাসে ঘুরছিল। বাফুফে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নির্বাচনে কারা নামছেন, সে নিয়ে আলোচনা ছিল। একটা নাম আজই পাওয়া গেছে। আজ সংবাদ সম্মেলন করে বাফুফে সভাপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে আজ তরফদার রুহুল আমিন বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য থাকবে বিগত সভাপতি যা যা করতে পারেননি, সেটা করতে। ফুটবলকে বাণিজ্যিকীকরণ করতে চাই। ধীরে ধীরে দেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে, সেটা করতে যেখানে যেখানে হাত দেওয়া দরকার সেটাই করব। যদি জয়ী হতে পারি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজ করা শুরু করব।’
২০২২ সালে বাংলাদেশের ফুটবল থেকে হঠাৎ নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংয়ের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিন। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম আবাহনীর পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত। বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস ক্লাবের পাশাপাশি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাইফকেই বাংলাদেশের ফুটবলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পেশাদার ক্লাবগুলোর মধ্যে ধরা হয়। কিন্তু ২০২২ সালে হঠাৎই ক্লাবটি তাদের ফুটবল বিভাগ বন্ধ করে দেয়, যদিও সাঁতার ও দাবা বিভাগ চালু থাকে।
সে সময় তারা ‘বৈশ্বিক ট্রেড অ্যান্ড কমার্সের পরিস্থিতির কারণে’ অর্থের অভাবকেই ক্লাবের ফুটবল বিভাগকে বন্ধ করে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে দেখায়। যদিও তখন শোনা যায়, ২০২০ সালের বাফুফে নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে দাঁড়ালেও পরে বিভিন্ন পক্ষের চাপের কারণে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ শাসিত সরকারের পতনের পর দৈনিক জনকণ্ঠের অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদে তরফদার রুহুল আমিনকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, ‘২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়েও পারিনি। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সেসময় গভর্মেন্টের বিভিন্ন সংস্থা আমাদেরকে ইনকোয়ারি ফর্ম করে দিয়েছে। সেগুলো এখনও হ্যাংগিং অবস্থায় আছে।’ সে সময়ে নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারায়ই পরে তরফদার রুহুল আমিন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ফুটবল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন বলে গুঞ্জন ফুটবলপাড়ায়।
মজার ব্যাপার, গত এক-দেড় মাসে কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগ চেয়ে যে আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন ‘আলট্রাস’ নামে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থক একটি গোষ্ঠী, ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই সংগঠন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কাজী সালাউদ্দিনও টেনে এনেছিলেন তরফদার রুহুল আমিনের কথা। ‘এই যে যত কিছু হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে, এগুলো সব সাইফের (সাইফ স্পোর্টিং) করা। এগুলো সব সাইফের সাবেক কর্মী’ – বলেছিলেন কাজী সালাউদ্দিন।