একদিকে জাপানের মতো উন্নত দেশের নাগরিকত্ব, অন্যদিকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি। একজন তরুণ ফুটবলারের সামনে ছিল এই দুই পথের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ। অনেকেই যেখানে স্বপ্ন দেখেন জাপানের মতো ফুটবল শক্তিধর দেশের হয়ে খেলার, সেখানে এক জাপানিজ ফুটবলার ঠিক উল্টো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে প্রয়োজনে ছেড়ে দিতে চান জাপানের পাসপোর্ট!
অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার শুকি ইতোফুসা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরই লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যেতে পারে ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে। সর্বশেষ খবর, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে এরই মধ্যে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন ইতোফুসা। চলছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা।
তবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার পথটা মোটেও সহজ নয়। কারণ ইতোফুসার সামনে ছিল কঠিন এক সিদ্ধান্ত। একদিকে ছিল জাপানের নাগরিকত্ব। যেখানে রয়েছে উন্নত জীবন, নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং জাপানের মতো শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতির অংশ হওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে ছিল বাবার দেশ বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই জাপানের নাগরিকত্ব ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত ইতোফুসা। একজন ফুটবলারের কাছে নিজের দেশের পাসপোর্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই বাংলাদেশের জার্সির জন্য ইতোফুসার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় এক ত্যাগ।
এখন প্রশ্ন হলো, ইতোফুসা বাংলাদেশের হয়ে খেলতে এতটা আগ্রহী হলে তাঁকে দলে নিতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন? গুঞ্জন আছে, দ্রুত এই ফুটবলারকে পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বাফুফেও।
হামজা চোধুরী বাংলাদেশের জার্সিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েক গুণ। এক এক করে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়েছেন শমিত শোম, ফাহামেদুল, জায়ান আহমেদের মতো ফুটবলাররা। বয়সভিত্তিক দলেও দেখা গেছে রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের মতো প্রতিভাদের। ইউরোপ-আমেরিকার পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন জাপানে বেড়ে ওঠা শুকি ইতোফুসা।
কিন্তু কে এই ইতোফুসা? তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই বা কেমন? কয়েকদিন আগেও জাপানের পঞ্চম স্তরের ক্লাব নাগাসাকিতে খেলেছেন তিনি। তবে বর্তমানে সেই ক্লাবের সঙ্গে নেই। চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ঠিকানা হয়েছে লাওসের শীর্ষ স্তরের ক্লাব সাভানাখেত জেলোসে।
৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার ইতোফুসা মূলত খেলেন লেফট উইঙ্গার হিসেবে। তবে শুধু উইংয়েই সীমাবদ্ধ নন তিনি। মিডফিল্ডেও খেলতে পারেন সমান দক্ষতায়। দুই পায়েই সমান স্বাচ্ছন্দ্য থাকায় দলের প্রয়োজনে একাধিক পজিশনে খেলতে পারেন এই তরুণ ফুটবলার।
তবে সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি বাংলাদেশি রক্তের উত্তরসূরি। ইতোফুসার মা জাপানিজ হলেও তাঁর বাবা বাংলাদেশের নাগরিক। আর বাবার দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন থেকেই এমন বড় সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত তিনি।
জাপানের পাসপোর্ট ছেড়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি, এই স্বপ্ন কি সত্যি হবে? ইতোফুসাকে কি দেখা যাবে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে মাঠে? উত্তর দেবে সময়। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে এমন আত্মত্যাগের গল্প খুব বেশি আসেনি।



