রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার কথা, মাঠে নামতেই ‘গায়েব’ তিনি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোলবন্যা বইয়ে রেকর্ড তছনছ করছেন আরলিং হলান্ড। মাত্র ৪ ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগে ৯ গোল করেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। গতকাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার কথা ছিল তাঁর। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্তের মিলানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে মাত্র এক গোল করলেই চলত।

মৌসুমে প্রতি ম্যাচেই গড়ে দুই গোল করা এক স্ট্রাইকারের কাছে ঘরের মাঠে এটুকু আশা করতেই পারেন ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকেরা। কিন্তু হলান্ড গোল করবেন কী, মাঠে খুঁজেই পাওয়া যায়নি তাঁকে। নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে তাই হোঁচট খেয়েছে সিটি। গোলশূন্য ড্র করেছে ২০২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগের চ্যাম্পিয়নরা।

নিজেদের একমাত্র চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটি সিমিওনে ইনজাগির ইন্তের মিলানকে হারিয়েই পেয়েছিল সিটি। নাটকীয় সে ম্যাচেও সিটির কঠিন পরীক্ষা নেওয়া ইন্তের গতকালও নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। অথচ কাল রাতটি হওয়ার কথা ছিল হলান্ডের।

সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছেন। প্রথম মৌসুমে ম্যাচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোল কররা সিটিতে ট্রেবল এনে দিয়েছিল। গত মৌসুমে চোট সমস্যায় অনেক ম্যাচ খেলা হয়নি। ছন্দে ফিরতেও তাই সময় লেগেছিল। তাই গোল করার গতি একটু কমে গিয়েছিল।

এ মৌসুমে ৫ ম্যাচেই ৯ গোল করায় রোনালদোর এক রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। সিটির জার্সিতে ১০৩ ম্যাচেই ৯৯ গোল হয়ে গেছে তাঁর। কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের হয়ে দ্রুততম গোলের সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটি পর্তুগিজ তারকার। রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে মাত্র ১০৫ ম্যাচেই শত গোলের দেখা পেয়েছিলেন রোনালদো।

গতকাল ১০৪ তম ম্যাচ খেলতে নামা হলান্ড গোল করবেন কী, মাঠে দেখায় যায়নি তাঁকে। প্রথমার্ধে তবু দু-একবার শট নিতে দেখা গেছে, দ্বিতীয়ার্ধে তো সেটাও দেখা যায়নি। আবারও বড় ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। শুধু হলান্ড না, সিটিকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি কাল। একদম শেষ মুহূর্তে তবু জয় ধরা দিতে চেয়েছিল তাদের। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও একদম তার হাতে বল পাঠিয়েছেন ইলকায় গুন্দোয়ান। এরপর আরেকটি হেড করেছিলেন গুন্দোয়ান, সেবার ডাইভ দিয়ে সেভ করেছেন ইয়ান সমার।

ম্যাচে গোলের ভালো সুযোগ সৃষ্টিতে সিটি এগিয়ে ছিল। আর ইন্তের ভালো সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ মুহূর্তে গড়বড় করে ফেলছিল সুযোগগুলো। ৩-৫-২ ফরমেশনের গোছানো ইন্তের প্রতিআক্রমনে উঠে যাচ্ছিল বারবার। কিন্তু শেষ পাসটি কখনো সময়মতো পাঠানো হয়নি বা ফরোয়ার্ডরা জায়গামতো থাকেননি বলে সিটিকে বিপদে ফেলতে পারেনি ইতালিয়ান ক্লাব।

সিটির ঝামেলা বাড়িয়ে প্রথমার্ধ শেষে মাঠ থেকে চোট নিয়ে বের হন কেভিন দি ব্রুইনা। ফিল ফোডেনকে নামানো হলেও সিটির আক্রমণে ধার বাড়েনি। বরং দারুণ এক সুযোগ পেয়েও মাতেও দারমিয়ান শট না নেওয়ায় এগিয়ে যায়নি ইতালিয়ান ক্লাব।

সিটি চেষ্টা করেছে, কিন্তু গত মার্চে আর্সেনাল ম্যাচের পর প্রথম কোনো গোলশূন্য ড্র এড়াতে পারেনি। আগামী রোববার সেই আর্সেনালের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচের আগে এমন পারফরম্যান্স পেপ গার্দিওলাকে নির্ঘাত ভাবাবে।