ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যোগ করা সময়ের খেলাও তখন শেষ পর্যায়ে। যেকোনো মুহূর্তে রেফারির বাঁশি বাজবে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচে পর্তুগাল তখন এগিয়ে ২-১ ব্যবধানে। এমন সময় সমতাসূচক গোলের দেখা পেয়েছিল ক্রোয়াটরা। তবে দীর্ঘ সময় ভিএআর যাচাইয়ে গোলটা শেষ পর্যন্ত বৈধতা পায়নি অফসাইডে।
এ গোলটি বাতিল হতেই পর্তুগাল উঠে যায় শেষ ষোলোতে। আর টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব থার্টি টু থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়েশিয়া। তবে গোলটি যদি বাতিল না হতো, তবে ম্যাচ গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। তাতে ম্যাচের ফল যেকোনো দিকে যেতে পারত!
রোনালদোদের বাঁচিয়ে দেওয়ার পেছনে অবদান আছে ক্রিকেটে বহুল প্রচলিত স্নিকোমিটার প্রযুক্তির। যে প্রযুক্তির কল্যাণেই ক্রোয়েশিয়ার শেষ গোলটি বাতিল হয়েছে।
তা কেন বাতিল হলো ক্রোয়েশিয়ার গোলটি? যোগ করা সময়ের ১৩ মিনিট বাঁপ্রান্ত থেকে ক্রস করেছিলেন ইভান পেরিসিচ। স্নিকোমিটারে ধরা পড়ে, ওই ক্রসে বক্সের ভেতর থাকা ক্রোয়েশিয়ার ইগোর মাতানোভিচের মাথায় বল সামান্য স্পর্শ করেছে। সে কারণে মারিও পাসালিচ অফসাইড হয়ে গেছেন।
পেরিসিচ যখন ক্রস করেছিলেন, তখন অফসাইড পজিশনে ছিলেন না পাসালিচ। কিন্তু মাতানোভিচের মাথায় স্পর্শ হওয়ার সময় তিনি অফসাইডে চলে যান। যদি কোনো কারণে মাতানোভিচের মাথায় ওই সূক্ষ্ম স্পর্শ না হতো, তবে এটি গোল হিসেবে গণ্য হতো।
ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে স্নিকোমিটার ব্যবহৃত হলেও ফুটবল বিশ্বকাপে এবারই প্রথম এই প্রযুক্তি দেখা যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি সামান্য ছোঁয়া বা সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে।
এদিকে বলের ভেতরে থাকা এই স্নিকো প্রযুক্তির কারণে বেঁচে যাওয়ায় ম্যাচ শেষে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস, ‘বার্তা খুবই পরিষ্কার: এখন বলের ভেতরে চিপ থাকে, এবং সেটার কারণেই ভিএআর হস্তক্ষেপ করেছে। এখানে কোনো ব্যক্তিগত মতামতের বিষয় নেই— বলটির চিপই সব দেখায়। কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ প্রযুক্তি পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এবং আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম।’
এই জয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রোনালদোর সামনে প্রতিপক্ষ স্পেন।



