ঠিক কিংবদন্তি বলতে যা বোঝায়, রেয়াল মাদ্রিদের সে তালিকায় তাঁর নাম সম্ভবত আসবে না। তবে রেয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে কেইলর নাভাস নায়ক হয়ে থেকে যাবেন নিশ্চিত। জিনেদিন জিদানের অধীনে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ, সে তিনবার মাদ্রিদের গোলপোস্টে ছিলেন নাভাসই!
এরপর বেলা গড়িয়েছে অনেক। ২০১৯ সালে মাদ্রিদ ছেড়ে পিএসজিতে পাঁচ মৌসুম কাটিয়েছেন নাভাস, মাঝে নটিংহ্যাম ফরেস্টে কিছুদিন ধারে খেলে গেছেন। এতদিনে তাঁর বয়স হয়ে গেছে ৩৭, এই মৌসুমে কোনো ক্লাবের সঙ্গেই আর চুক্তিবদ্ধ নন তিনি।
‘চুক্তিবদ্ধ নন’ – এই শব্দজোড়াই এখন রেয়াল মাদ্রিদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে নাভাসকে বুঝি প্রার্থিত বানিয়ে রাখতে যাচ্ছে! মৌসুমের মাঝপথে এসে বিপদে পড়ে যে এখন নাভাসের দিকেই বার্সা হাত বাড়াতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন স্পেনে!
হঠাৎ গোলকিপারের খোঁজে কেন নেমেছে বার্সেলোনা, তা-ও আবার মৌসুমের মাঝপথে এসে? নিয়মিত গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন গত রোববার লিগে ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর চোটে পড়েছেন। এরই মধ্যে অস্ত্রোপচারও হয়ে গেছে। তবে বার্সার জন্য দুঃসংবাদ হলো, অন্তত সাত মাস জার্মান গোলকিপারকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। মাসের সংখ্যাটা বেড়ে ৯-ও হতে পারে।
সাত মাস মানে অন্তত এপ্রিলের আগে মাঠে ফেরা হচ্ছে না টের স্টেগেনের, অর্থাৎ মৌসুম প্রায় শেষই হয়ে গেছে তাঁর। লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রায় পুরোটা পথই বাকি পড়ে আছে। এই পুরো পথের জন্য বিকল্প গোলকিপার ইনাকি পেনিয়ার ওপর ঠিক কতটা ভরসা করতে পারে বার্সা, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
তাহলে উপায়? সেপ্টেম্বর চলছে এখন, দলবদলের বাজারও জানুয়ারির আগে খোলা নেই যে পছন্দের কাউকে কিনে নেবে বার্সা। তাছাড়া লিগের বেঁধে দেওয়া বেতন ও খরচের সীমা মানতে কয়েক মৌসুম ধরেই নাকানি-চুবানি খাওয়া বার্সেলোনা চাইলেই বড় অঙ্কে বা বেশি বেতনে খেলোয়াড়ও কিনতে পারবে না। সে কারণে জানুয়ারির দলবদল বাজারের দিকে তাকিয়ে তাদের তেমন লাভ নেই।
সে ক্ষেত্রে উপায়? বিপদে পড়া বার্সেলোনা এখন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন – এমন গোলকিপারদের মধ্যে কাউকে ‘ফ্রি ট্রান্সফার’-এ নিয়ে আসতে পারে। চুক্তিবদ্ধ না থাকা খেলোয়াড়কে ফ্রি ট্রান্সফারে কিনতে তো আর দলবদল বাজার খোলার দরকার পড়ে না, সে ক্ষেত্রে এমন খেলোয়াড়কে চাইলে এখনই দলে টানতে পারবে বার্সা।
এই হিসেবেই জড়িয়ে যাচ্ছে কেইলর নাভাসের নাম। কোস্টারিকান গোলকিপার ছাড়া এই মুহুর্তে লিভারপুলের সাবেক গোলকিপার লরিস কারিউস, এলচের সাবেক স্প্যানিশ গোলকিপার এদগার বাদিয়া, এক সময়ে ইউভেন্তুসে খেলা ৩৪ বছর বয়সী পোলিশ গোলকিপার ভইচেক শেজনির নাম জড়িয়েছে গুঞ্জনে। এমনকি মাস কয়েক আগে অবসরে যাওয়া বার্সেলোনার সাবেক গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভো জানিয়েছেন, বার্সা চাইলে তিনি এই ৪১ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ফিরতে রাজি।
তবে এই নামগুলোর মধ্যে নাভাসের নামই বেশি গুঞ্জনে জড়িয়ে গেছে। সেটি রেয়াল মাদ্রিদ তাঁর সাবেক ক্লাব বলেই সংবাদমাধ্যমে মুখরোচক হয়ে উঠেছে কি না, সে প্রশ্নও উঠতে পারে।