বাংলাদেশের সঙ্গে শেষের লড়াইয়ের আগে ‘যুদ্ধে’ হারাতে হলো ভারতকে

তাহলে দুই বছর আগের ফাইনালের পুনর্মঞ্চায়নই হচ্ছে!

স্টেডিয়াম থাকছে একই, টুর্নামেন্ট একই, মঞ্চটাও শিরোপা নির্ধারণের, আর সে মঞ্চে নামতে যাওয়া দুই দলও থাকছে অভিন্ন। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে নেপালকে হারিয়ে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো সিনিয়র মেয়েদের সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ। আগামী বুধবার সেই দশরথ স্টেডিয়ামে এবারের সিনিয়র মেয়েদের সাফের ফাইনালে এবারও বাংলাদেশ পাচ্ছে সেই নেপালকেই।

বাংলাদেশের মেয়েরা আজ প্রথম সেমিফাইনালে ভুটানকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছিলেন, অপেক্ষা ছিল ভারত আর নেপালের মেয়েদের মধ্যে অন্য সেমিফাইনালে জিতে ফাইনালে প্রতিপক্ষ হয়ে কোন দল আসে সেটি দেখার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয়ে দেখা দিয়েছে নেপাল।

তবে তার আগে যা হলো, তাতে এভাবে বলাই যায় যে, ফুটবল ম্যাচ নয়, যেন একটা ‘যুদ্ধ’ জিতে ফাইনালে উঠেছেন নেপালের মেয়েরা! প্রথমে নেপালের এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোয় দর্শকের ক্ষোভের কারণে মিনিট দশেক বন্ধ থাকে খেলা, এরপর নেপালের একটা গোল রেফারি বাতিল করায় দ্বিতীয় দফা দর্শক ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকে।  

যত নাটক সব হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধেই। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে নেপালের রেখা পোড়েলকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ছিলেন পোড়েন। তাঁকে লাল কার্ড দেখানোয় প্রথম দফা দর্শকের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

তবে নেপালের আরেক খেলোয়াড় সাবিত্রা ভান্ডারি দর্শককে অনুরোধ করে থামান। খেলা শুরু হয় মিনিট দশেক পর। এরপর ৭০ মিনিটে সঙ্গীতা বাসফোরের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। কিন্তু এরপরই শুরু হয় নাটক!

ভারতের মেয়েরা তখনো গোলের উদ্‌যাপন করছেন, এমন অবস্থায় নেপালের মেয়েরা খেলা শুরু করে দেন, বলও জালে জড়িয়ে দেন। রেফারি গোল বাতিল করেন। কিন্তু পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, ভারতের গোলের পর আবার খেলা শুরুর বাঁশি একবার বাজিয়েছিলেন রেফারি। এরপরই খেলা শুরু করেছিল নেপাল।

এমন অবস্থায় গোল বাতিল করায় আবার নেপালের দর্শক ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ যাত্রায় নেপালের খেলোয়াড়েরাও রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ছিলেন। ফলে আবার খেলা বন্ধ। ভারতের মেয়েরা এ সময়ে মাঠেই ছিলেন। দেখতে দেখতে ঘণ্টার কাঁটাও পেরিয়ে যায়। অবশেষে প্রায় ৬৮ মিনিট পর দুই দলকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে খেলা শুরু করা হয়।

খেলা শুরুর কয়েক মিনিট পরই অবশ্য নেপাল গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে। সাবিত্রা বাসনেত সমতায় ফেরান নেপালকে। ৯০ মিনিট পরও স্কোরলাইন ১-১ থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে যায় নেপাল।