হতাশা বাড়িয়ে তোলা দুই হারের পর অবশেষে গতকাল স্প্যানিশ লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদ জয় তো পেয়েছে, কিন্তু খুশি আর হতে পারছে কই! ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের হ্যাটট্রিকে মাদ্রিদ নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবাউয়ে ওসাসুনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও মাদ্রিদকে খুশি হতে দিচ্ছে না তিনটি চোট।
এই চোটই কি আবার সের্হিও রামোসের রেয়াল মাদ্রিদে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে? ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও গতকাল চোটে পড়েছেন, তাঁর বিকল্প হিসেবে এমনিতেই রক্ষণ নিয়ে এই মৌসুমে ভোগা রেয়াল মাদ্রিদ এই মুহূর্তে খেলোয়াড় কোথায় পাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই ক্লাবটির সমর্থকদের। এর মধ্যে মাদ্রিদেরই সাবেক প্লেমেকার গুতি ক্লাবটিকে পরামর্শ দিয়েছেন, মাদ্রিদে তাঁর সঙ্গে এক সময়ে খেলা রামোসকে আপৎকালীন সমাধান হিসেবে নিয়ে আসতে। তবে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এএস জানাচ্ছে, রামোসকে ফেরানোর ব্যাপারে এই মুহূর্তে ভাবছেই না মাদ্রিদ।
গতকাল আধা ঘণ্টার মধ্যেই মাদ্রিদের দুই ব্রাজিলিয়ান – ফরোয়ার্ড রদ্রিগো আর ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও চোটে পড়েন। এর মধ্যে গত বছরই এক এসিএল (অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) চোট থেকে সেরে ওঠা মিলিতাও কাল আবার পড়েছেন এসিএলের চোটে, যা থেকে সেরে উঠতে ৬-৮ মাসও লেগে যায়। প্রথমার্ধে চোটে পড়া লুকাস ভাসকেসকেও আর দ্বিতীয়ার্ধে পায়নি মাদ্রিদ।
এর আগে রাইটব্যাক দানি কারবাহালকে চোটের কাছে হারিয়েছে মাদ্রিদ, পুরো মৌসুমেই তাঁকে আর না পাওয়ার সম্ভাবনা। এছাড়া গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিসহ আরও বেশ কয়েক তারকাই চোট নিয়ে মাঠের বাইরে। এমনই অবস্থা যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে মাদ্রিদের রক্ষণে মূল দলের খেলোয়াড় বলতে শুধু আন্টোনিও রুডিগারই আছেন! কোনো রাইটব্যাকই নেই।
কারবাহালের পর ভাসকেসের চোট, ওদিকে মিলিতাওয়ের চোটের কারণে এই মূহুর্তে রাইটব্যাক আর সেন্টারব্যাক নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় মাদ্রিদ। তারওপর জানুয়ারিতে দলবদল বাজার খোলার আগে এই মূহুর্তে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির বাইরে থাকা খেলোয়াড় ছাড়া কাউকে দলে নেওয়ার সুযোগও নেই।
এ কারণেই রামোসের কথাই সবার আগে মনে পড়ছে গুতির। ক্যারিয়ারের শুরুর বেশ কয়েক বছর রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার, এরপর সেন্টারব্যাক বনে গেছেন। জিদান-রামোস-বেকহ্যামদের সময়ের মাদ্রিদে খেলা গুতি তাই এএসে বলেছেন, ‘আপনাকে (দলবদলের) বাজারে নামতেই হচ্ছে, ওদিকে সের্হিও রামোস এই মুহূর্তে ক্লাবহীন। রাইটব্যাক আর সেন্টারব্যাক…কোনো খরচও হবে না। আমি তো সহজ সমাধানই দেখছি।’
১৭ বছর মাদ্রিদে কাটিয়ে ২০২১ সালে পিএসজিতে যাওয়া রামোস গত মৌসুমে আবার স্পেনে ফিরেছেন। তখনো মাদ্রিদে তাঁর ফেরার গুঞ্জন উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত রামোস যান তাঁর প্রথম ক্লাব সেভিয়ায়। সেখানে এক মৌসুমের চুক্তিতে খেলেছেন, গত মৌসুমের পর আর চুক্তি নবায়ন হয়নি।
সেটিই সম্ভবত মাদ্রিদকে রামোসের ব্যাপারে ভাবতে অনুৎসাহিত করছে। একে তো রামোসের বয়স হয়ে গেছে ৩৮, তারওপর এতদিন ধরে খেলার বাইরে থাকায় তাঁর ম্যাচ ফিটনেস নিয়েও সংশয় আছে, তা তিনি যতই ইনস্টাগ্রামে অনুশীলনের ভিডিও দিয়ে রাখুন না কেন!
কিন্তু আপাতত আপৎকালীন সময়ে, দলবদলের বাজারের বাইরে রামোসের চেয়ে ভালো কাউকে আর দেখছেন না গুতি। মাদ্রিদ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা ভেবে তরুণ কাউকে চাইবে সেটাই স্বাভাবিক, সেটা মেনে নিয়েই গুতি বলেছেন, ‘ওরা যদি বাজারে গিয়ে আগামী দশ বছর খেলতে পারবে এমন সেন্টারব্যাক কিনতে চায়, অনেক দাম দিয়েই কেনে, সেটাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আপাতত সমাধানের কথা বললে, যে কেমন খেলবে আপনি জানেন না, এমন কারও চেয়ে আমি সের্হিও রামোসকেই দেখতে চাইব।’
কেন রামোস? সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গুতি, ‘ও এমন একজন যে কিনা এখানেই ছিল, গত বছরও নিয়মিত খেলেছে, নিজের যত্ন নিচ্ছে ঠিকঠাকভাবে, এবং ছয়টা মাস খেলে ফেলতে পারবে।’
তবে এএসেই বিখ্যাত সাংবাদিক জোয়াও ফেলিশ দিয়াস লিখেছেন, মাদ্রিদ দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাই করছে, তরুণ কাউকে চায় যিনি লম্বা সময় ধরে সার্ভিস দিয়ে যেতে পারবেন। আর আপৎকালীন সমাধান হিসেবেও তারা রামোসকে ভাবছে না, কারণ ৩৮ পেরিয়ে যাওয়া রামোসের বয়স আর ম্যাচ ফিটনেস তাদের ভরসা জোগাচ্ছে না।
‘ফ্রি ট্রান্সফারে’ই কাউকে না নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে মাদ্রিদ – এমনটাই জানাচ্ছেন এএস-এর ফেলিশ দিয়াস। সেন্টারব্যাক হিসেবে জানুয়ারিতে লাইপজিগের কাস্তেয়ো লুকেবাকে আনার ব্যাপারে মাদ্রিদের আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছে। আল-নাসরের সেন্টারব্যাক আয়মেরিক লাপোর্তকে নিয়েও ফিসফাস আছে। আর রাইটব্যাক হিসেবে আপাতত সমাধান? ‘সব কাজের কাজী’ মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে আছেন না!