টাকা জোগাতে না পারলে অলমোকে বিনামূল্যে হারাবে বার্সেলোনা

একেকটা দলবদলের মৌসুম ঘনিয়ে আসে, আর বার্সেলোনার অফিসে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই এতদিন এমনটা বেশি হয়েছে, কয়েক মৌসুম ধরেই খেলোয়াড় দলে টেনে আনলেও তাঁকে নিবন্ধন করানো নিয়ে যে ঝামেলায় পড়তে হয়েছে বার্সাকে! কাতালান ক্লাবটি আর্থিক বিবরণীর এমনই অবস্থা যে, লিগের বেঁধে দেওয়া বেতনের সীমার নিয়মের মধ্যে থেকে খেলোয়াড় নিবন্ধন করানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য।

তা গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নিয়মিত দেখা যাওয়া দুশ্চিন্তায় এবার বার্সেলোনাকে ভুগতে হচ্ছে জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলেও। সেটাও আবার গত ৯ আগস্ট ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় দলে টানা স্প্যানিশ প্লেমেকার দানি অলমোর নিবন্ধন নিয়ে! স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারলে দানি অলমোকে বিনামূল্যে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও পড়তে হতে পারে বার্সাকে!

সাধারণত চুক্তির পুরো মেয়াদের জন্যই খেলোয়াড়দের নিবন্ধন করানো হয়। তাহলে অলমোর ক্ষেত্রে ছয় মাস পর জানুয়ারিতে বার্সাকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে কেন? কারণ জুলাইয়েও তো বার্সার আর্থিক পরিস্থিতি একইরকম ছিল! তখন টাকার হিসাব মেলাতে না পেরে অলমোকে কিনেও নিবন্ধন করাতে না পারার ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বার্সা। মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচে অলমো খেলতেই পারেননি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়ায়।

শেষ মুহূর্তে ইলকায় গুন্দোয়ান ক্লাব ছেড়ে যাওয়ায় আর আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন চোটে পুরো মৌসুমের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় বেতনের বিলে এ দুজনের কারণে হঠাৎ বেঁচে যাওয়া অর্থ দেখিয়ে অলমোকে ছয় মাসের জন্য নিবন্ধন করে বার্সা।

তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো সে সময়ই জানায়, অলমোর নিবন্ধনের এই পরিস্থিতির কারণে তাঁর সঙ্গে বার্সেলোনার চুক্তিতে নতুন শর্ত রাখা হয়। যে শর্ত অনুযায়ী, জানুয়ারিতে তাঁকে আবার নিবন্ধন করাতে না পারলে বিনামূল্যেই বার্সা ছেড়ে চলে যেতে পারবেন অলমো! শুধু এই জানুয়ারিই নয়, বার্সায় তাঁর চুক্তির মেয়াদ, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি দলবদলের মৌসুমেই অনিবন্ধিত থাকলে অলমো বিনামূল্যে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর হাতে থাকবে।    

অবশ্য মুন্দো দেপোর্তিভোই আবার জানাচ্ছে, অলমো বা বার্সা জানুয়ারির সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা শঙ্কিত নন। বার্সেলোনার একাডেমিতেই বেড়ে ওঠা অলমোর স্বপ্ন ছিল বার্সায় খেলা, তাই ক্লাব ছাড়ার কথা মাথায়ও আনছেন না তিনি।

ওদিকে বার্সারও বিশ্বাস, জানুয়ারির দলবদল মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই দুটি ব্যবসায়িক চুক্তি করে ফেলতে পারবে তারা। তাতে শুধু অলমোর নিবন্ধনই নয়, স্ট্রাইকার পাউ ভিক্তরের নিবন্ধনও করাতে পারবে বলে বিশ্বাস তাদের। পাশাপাশি লিগের বেঁধে দেওয়া ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে-তে (এফএফপি) ১:১ নিয়মেও চলে আসতে পারবে বলে মনে করছে বার্সার বোর্ড। ১:১ নিয়ম মানে হলো, সে সময়ে বার্সা প্রতি ১ ইউরো আয়ের বিপরীতে ১ ইউরোই খরচ করার সুযোগ পাবে। এর আগে তাদের আর্থিক বিবরণীর সঙ্গীন অবস্থার কারণে বার্সা লিগের নিয়ম অনুযায়ী ৪:১ নিয়মের সীমায় ছিল। অর্থাৎ, প্রতি ১ ইউরো খরচ করার জন্য তাদেরকে আগে আর্থিক বিবরণীতে ৪ ইউরো আয় দেখাতে হতো।  

নাইকির সঙ্গে চুক্তিতে এরই মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছে গেছে বার্সা, সেটি শুধু ক্লাবের অ্যাসেম্বলিতে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এর পাশাপাশি বার্সা চাইছে, তাদের স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সের মিডিয়া স্বত্ত্ব আগামী ২০ বছরের জন্য বন্ধক রেখে ২০ কোটি ইউরো আয় করতে। সেটা সম্ভব হলে অবশ্য অলমো তো নয়ই, নতুন খেলোয়াড়কে নিবন্ধন করাতে আর তেমন বেগ পেতে হবে না বার্সাকে।

দানি অলমো বার্সায় যোগ দিয়ে অবশ্য মানিয়ে নিতে খুব বেশি সময় নেননি। এরই মধ্যে মৌসুমে ১২ ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ৬টি।