হালান্ডকে নিয়ে হায়হায়, গার্দিওলার চোখ সিটির টাকার বস্তায়

ম্যাচের আগেই পেপ গার্দিওলা বলছিলেন, ম্যানচেস্টার সিটির এমন সমস্যার সমাধানে একটা রাস্তাই দেখেন তিনি। জানুয়ারির দলবদলে আরও দু-তিনজন খেলোয়াড় নিয়ে আসা! রক্ষণ, মাঝমাঠ সব জায়গাতেই সমস্যা দেখছেন ম্যান সিটি কোচ। এমনকি ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি দামি দলটার খেলোয়াড়েরাই তাঁর কাছে আরও খেলোয়াড় কেনার আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা।

এভারটনের বিপক্ষে আজ নিজেদের মাঠে ম্যাচের পর গার্দিওলার অনুভূতি আরও পোক্ত হওয়ার কথা! গত মাস দুয়েকে জয় কী জিনিস তা-ই ভুলে যাওয়া সিটি যে আজ বড়দিনের পর ‘বক্সিং ডে’-তে উপহারের বক্সেও শুধু একটা পয়েন্টই পেল! নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে সিটি। প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র ১ জয় সিটির। তা-ও সর্বশেষ দুই ম্যাচে হারের পর যে আজ একটা পয়েন্ট পেয়েছে, সেটাকেই বড়দিনের উপহার মনে হতে পারে সিটিজেনদের।

তা গার্দিওলা রক্ষণ আর আক্রমণে খেলোয়াড় দরকার বলে জানিয়েছেন, কিন্তু সিটির এমন ফর্মের পেছনে সাদা চোখে তো আর্লিং হালান্ডের গোলখরাকেই বড় সমস্যা বলে মনে হবে। আজও গোল পাননি নরওয়েইজিয়ান স্ট্রাইকার। শুধু তা-ই নয়, একটা পেনাল্টি পেয়ে সেটাতেও আজ গোল করতে পারেননি, তাঁর নির্বিষ শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন এভারটন গোলকিপার পিকফোর্ড। এ নিয়ে সর্বশেষ ১২ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল হালান্ডের। তাঁর এমন অবস্থা দেখে তো আর্লিংকে ‘হায়হায়’লান্ডই মনে হওয়ার কথা সিটি সমর্থকদের।

গার্দিওলা অবশ্য এ ম্যাচের আগেই বলেছিলেন, সিটির অন্য খেলোয়াড়দের উচিত হালান্ডকে ম্যাচে আরও জড়ানোর ব্যবস্থা করা। সহজ হিসাব, হালান্ড বল পায়ে দলের খেলা গড়ায় অবদান রাখার মতো খেলোয়াড় তো নন, তিনি আদিম যুগের স্ট্রাইকারের মতো – বক্সে থাকবেন, সতীর্থরা পাস-থ্রু-ক্রস দেবেন, আর তিনি গোল করবেন! গার্দিওলা তাই সিটির অন্য খেলোয়াড়দের আহ্বানটা জানানোরই কথা। কিন্তু পেনাল্টি পেয়ে সেটিতে গোল করতে তো আর সতীর্থদের সাহায্যের দরকার হয় না!

আজ ম্যাচের ১৪ মিনিটেই বের্নার্দো সিলভার গোলে এগিয়ে যায় সিটি। এর আগে ডিফেন্ডার গাভারদিওলের একটা হেড পোস্ট কাঁপিয়ে ফেরে। সিলভার গোলের পর তাই মনে হচ্ছিল, সিটি বুঝি ছন্দ খুঁজে নিচ্ছে! কিন্তু কোথায় কী, বলের দখলে, শটের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও গোল হওয়ার মতো বড় সুযোগে যে এভারটনের চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে থাকেনি সিটি।

গোল করার তিন মিনিট পরই অবশ্য দারুণ একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছেন সিলভা। ৩৬ মিনিটে তিনি বিষাদ নিয়ে দেখলেন, দারুণ আক্রমণের পর কীভাবে সমতায় ফিরল এভারটন! ডানদিক থেকে আক্রমণের পর ডুকুরের ক্রসে যেভাবে পায়ের সামনের অংশের দারুণ প্রথম স্পর্শে ফিনিশিং টেনে দিলেন এনদিয়ায়ে, এভারটন ভক্তদের গোলের তৃপ্তি তাতে দ্বিগুণ হওয়ার কথা।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খুব যে আকর্ষণীয় ফুটবল হলো, তা নয়। শন ডাইসের দল সব সময়ই মাঝমাঠ আর রক্ষণের খেলোয়াড়দের দুই রেখাকে অল্প কয়েক গজের মধ্যে রেখে লো ব্লকে খেলে, এভারটন সেভাবেই খেলল। সিটি দুই পাশ ধরে আক্রমণে উঠতে পারল না ঠিকমতো, দুই উইঙ্গার ডকু আর সাভিও খেলোয়াড় কাটিয়ে যাওয়ায় দক্ষতা দেখাতে পারলেন না সেভাবে। ফলে বল বারবার মাঠের মাঝ দিয়েই উঠেছে বেশি, সেখানে এভারটন তো জট পাকিয়ে রেখেছিলই! আক্রমণ আর প্রাণ পাবে কীভাবে!

এর মধ্যে ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে যায় সিটি। পেনাল্টির আগে পিকফোর্ড তাঁকে ভেংচি কাটার জবাবে হালান্ডও ভেংচি কেটেছিলেন, কিন্তু তাঁর জবাব অতটুকুতেই শেষ। শটটা হলো দুর্বল, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সেটা ফেরাতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না পিকফোর্ডকে।  

গার্দিওলার মাথাব্যথা বাড়ানোর মতো পরিসংখ্যান শুনবেন? গত মাসের শুরু থেকে এই পর্যন্ত লিগে সিটির (৫ পয়েন্ট) চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছে বাকি ১৯ দলের সবগুলোই! ভাগ্যিস, মৌসুমের শুরুতে কিছু পয়েন্ট বাগিয়ে রেখেছিল গার্দিওলার দল, না হলে তো আজকের ম্যাচের পর পয়েন্ট তালিকার ৬-এর বদলে ২০-এ থাকতে হতো!