ইসরায়েলে যাওয়ার পথে প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো তাঁকে

বেলজিয়ান ফুটবলার স্তেফান ওমিওনগা খেলেন ইসরায়েলি ক্লাব নেই সাখনিনে। বড়দিনের ছুটি শেষে ক্লাবে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন ২৫ ডিসেম্বর। কিন্তু তাঁকে জোর বিমান থেকে নামিয়ে দিয়েছে ইতালির পুলিশ।

২৮ বছর বয়সী বেলজিয়ান ফুটবলার দাবি করেছেন রোম থেকে রেল আবিবে যাচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় তাঁর ভ্রমণের কাগজ নিয়ে প্রশ্ন করেন বিমানের স্টুয়ার্ড। এরপরই ঘটে ওই ঘটনা। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে দুই পুলিশকে ওমিওনগা নিজেকে ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং বেলজিয়ামের নাগরিক বলছেন। পুলিশ তবু হাতকড়া বের করে।

এক পুলিশ ফুটবলারের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দেয়, যা দেখে এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘কী করছ তুমি? পাগল নাকি?’ ওই পুলিশ তখন ফুটবলারের মাথা চেপে ধরে ঘাড়ের ওপর হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে। এরপর ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে বিমান থেকে নামানো হচ্ছে, পুরো সময়টা নিজেকে বেলজিয়ামের নাগরিক বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন ওমিওনগা।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পুলিশি নৃশংসতার শিকার বলে দাবি করেছেন ওমিওনগা। বলেছেন প্লেন থেকে নামার পরও তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে পুলিশ। তাঁকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও গ্রেপ্তারের কারণ নাকি জানানো হয়নি।

ইনস্টাগ্রামেই বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছেন, ’২৫ ডিসেম্বর পুলিশি নৃশংসতার শিকার হয়েছি আমি। রোম থেকে তেল আবিবে যাওয়ার পথে এক স্টুয়ার্ড এসে আমার কাগজে সমস্যা আছে বলে জানায় এবং প্লেন থেকে নেমে যেতে বলে। আমার কাগজ নিয়ে নিশ্চিত থাকায়, খুব শান্তভাবে লোকটাকে জিজ্ঞেস করি সমস্যাটা কী নিয়ে।’

এরপরই ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ‘পুলিশ ডাকা হয় এবং আমাকে হাতকড়া পরিয়ে জোর করে প্লেন থেকে নামানো হয়। নামানোর পর লোকচক্ষুর আড়ালে আমাকে মাটিতে ফেলে পিটিয়েছে, একজন মাথার মাথার ওপর হাঁটু চেপে ধরেছে।’

এখানেই শেষ হয়নি ঘটনা, ‘আমাকে পুলিশের গাড়িতে নেওয়া হয়, অপরাধীর মতো হাতকরা পড়িয়ে এয়ারপোর্টে নেওয়া হয়। একটা অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়, কিন্তু এত অবাক হয়েছিলাম যে প্যারামেডিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। এরপর হঠাৎ পুলিশের রেডিওতে শুনতে পাই ওরা বলছে, “চিকিৎসা সেবা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, সে ঠিক আছে।” যা একদম মিথ্যা। পুলিশ আমাকে অত্যাচার করবে এই ভয়ে আমি তাদের বলাম আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে।’

পুলিশি হেফাজতেও স্বস্তি পাননি তিনি, ‘আমাকে একটা রুমে রাখা হলো, কোনো খাবার বা পানি ছাড়া, কয়েক ঘণ্টা চরম অপমানের মধ্যে ছিলাম। আমাকে ছাড়ার পর জানলাম, গ্রেপ্তারের সময়  আমি নাকি ব্যথা দিয়েছি এমন অভিযোগ করেছে এক পুলিশ। অথচ আমার হাতে হাতকড়া ছিল। এখন পর্যন্ত আমাকে গ্রেপ্তারের কোনো কারণ বলা হয়নি। ’

এমন আচরণের পেছনে বর্ণবাদকেই কারণ বলে মনে করেন তিনি, ‘একজন মানুষ ও বাবা হিসেবে, কোনো ধরনের বৈষম্য আমি মেনেন নিতে পারি না। এই গ্রেপ্তার শৈলচূড়ার অগ্রভাগ শুধু। আমার মতো বহু মানুষ কাজ পায় না, বাসা পায় না, পছন্দের খেলায় অংশ নিতে পারে না, কারণ তারা কৃষ্ণাঙ্গ।’