এক ঝড় শেষ হতে না হতেই আরেক ঝড় গার্দিওলার জীবনে?

গত বছরের শেষ ভাগে হঠাৎ একটা ঝড় আঘাত হানে পেপ গার্দিওলার জীবনে। দুই মাসের সে ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৩ ম্যাচে মোটে একটাতে জয় পায় ম্যানচেস্টার সিটি। তাতে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান তো হাতছাড়া হয়েছেই, সিটি নেমে গেছে তালিকার ছয় নম্বরে।

দুই মাস স্থায়ী ঝড়ের ধাক্কা সামলে আবারও ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছে সিটি। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ তিন ম্যাচেই জয়ের দেখা পেয়েছে গার্দিওলার দল। কিন্তু এরমধ্যে আবার দুঃসময় আঘাত হেনেছে দিয়েছে ৫৩ বছর বয়সী কোচের জীবনে!

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পেরিওদিকোর সংবাদ অনুসারে, স্ত্রী ক্রিস্তিনা সেরার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে গার্দিওলার। ৩০ বছর এক সঙ্গে একসঙ্গে কাটানোর পর দুজন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

পেরিওদিকোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচ্ছেদের বিষয়টি গার্দিওলা ও সেরা তাঁদের কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন। বিচ্ছেদ হলেও দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। এমনকি সর্বশেষ বড়দিনের উৎসবেও তিন সন্তানের সঙ্গে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পেরিওদিকো।

এর আগে ২০১৯ সালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, নিজের ফ্যাশন দেখার জন্য ম্যানচেস্টার ছেড়ে বার্সেলোনায় ফিরে যান সেরা। সেখানে তিনি এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায়। এরপর থেকে স্প্যানিশ শহর ও লন্ডনে তাঁর সময় কাটাতে থাকেন। আর সিটির কোচ হিসেবে গার্দিওলা থেকে যান ম্যানচেস্টারে।

তা দুজন দুদিকে থাকলে সংসার কীভাবে সামলান, এমন প্রশ্নের জবাবে ২০২৩ সালের মে মাসে গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি ৫দিন ছুটি পাই, আমি ফুটবল থেকে দূরে থাকি। আমি বার্সেলোনা যাই আমার স্ত্রী আর ছোট মেয়েকে দেখতে। এটা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। কিন্তু প্রতি ৩ দিন পর পর ম্যাচের সূচিতে, এটার কোনো সুযোগ থাকে না।’

গত বছরের জানুয়ারিতে স্ত্রী সেরাকে নিয়ে গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেক কিছুর জন্যই সারা বিশ্বে স্পেশালদের একজন। বিশেষ করে ফ্যাশনে। সে সাধারণত আমাকে বলে থাকে, এটা গায়ে দিও না, কিংবা ওটা পরো। আমি সেসব মেনে চলি। যখন কেউ আমার চেয়ে কোনো কিছুতে অনেক বেশি ভালো হয়, আমি সেটা মেনে চলার চেষ্টা করি।’

গার্দিওলার সঙ্গে সেরার পরিচয় ১৯৯৪ সালে। সে সময় গার্দিওলার বয়স ছিল ২৩, আর সেরা ছিলেন ২০ বছর বয়সী। তখন থেকেই একসঙ্গে থাকলেও দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২০১৪ সালে। এ জুটির তিন সন্তান আছে- মারিয়া (২৪), মারিয়াস (২২) ও ভ্যালেন্তিনা (১৭)।