আগস্টজুড়ে দলবদলের সংবাদের শিরোনামে ছিলেন তিনি। নাপোলিতে থাকতে চান না, সে খবর আগেই চাউর হয়েছিল। জুলাই-আগস্টের দলবদল মৌসুমে এই একদিন শোনা গিয়েছিল তিনি চেলসিতে যাচ্ছেন, তো পরদিন শোনা যায় সৌদি আরবের কথা। শেষ পর্যন্ত দুটির কোনোটিই হয়নি, সেপ্টেম্বরের শুরুতে ধারে নাপোলি থেকে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইয়ে যোগ দেন ভিক্তর ওসিমেন।
সেখানে মাঠের পারফরম্যান্স তাঁর ভালোই হচ্ছে – লিগে ১৫ ম্যাচে ১২ গোল ৪ অ্যাসিস্ট, ইউরোপা লিগে ৫ ম্যাচে ৪ গোল ১ অ্যাসিস্ট। গালাতাসারাইও আছে তুরস্কের লিগের শীর্ষে। তবে এর মধ্যেই বিতর্কে জড়ালেন ওসিমেন। ২৬ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার তুরস্কের এক সাংবাদিকের মাথায় ঘুষি মেরেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক, এর প্রেক্ষিতে ওসিমেন এখন ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানাচ্ছে ইএসপিএন।
ঘটনাটা ঘটেছে গত ২১ জানুয়ারি, ইউরোপা লিগে সেদিন দিনামো কিয়েভের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে ওসিমেনের গালাতাসারাই। কিন্তু তুরস্কের সংবাদপত্র পোস্তার সাংবাদিক তোলগা বোজদুমান অভিযোগ করেন, ম্যাচের পর রাতে তিনিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ওসিমেন ও তাঁর বন্ধুদের এক নাইটক্লাবের সামনে দেখতে পেয়ে তাঁদের ছবি তোলেন। তাতে খেপে গিয়ে ওসিমেন তাঁর মাথায় আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ বোজদুমানের।
‘ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠতেই তিনি আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন, তেড়ে আসেন। আমার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু আমি (ক্যামেরা) শক্ত করে ধরে রাখি। তখন তিনি আমার মাথায় আঘাত করেন। আমার মাথার ডানদিকে এখনো ব্যথা আছে’ – পোস্তায় ঘটনার বর্ণনায় বলেছেন বোজদুমান।
ওই সাংবাদিক এ-ও জানান যে, তিনিসহ সব সাংবাদিককে ছবিগুলো ডিলিট করার জন্য টাকা সেধেছেন ওসিমেন। তাতে রাজি না হওয়ায় ওসিমেন নাকি বলেছেন, ‘এই ছবিগুলো যদি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তোমাদের খবর করে ফেলব আমি!’
ওসিমেন অবশ্য দাবি করেছেন, কোনো নাইট ক্লাবে তাঁরা যাননি। তাঁর দাবি, ঘটনাটা ঘটেছে একটা রেস্তোরাঁর সামনে যিনি তিনি এবং নাইজেরিয়া জাতীয় দলের সতীর্থ কেনেথ ওমেরুওসহ আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে খেতে গিয়েছিলেন। ‘আমি কোনো নাইট ক্লাবে যাইনি। আমি এবং আমার বন্ধুরা একটা আফ্রিকান রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলাম। ডিনার শেষে আমরা বাইরে আমার বন্ধুর নতুন গাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম’ – তুরস্কের আরেক সাংবাদিক এনেস চেভাহিরচির কাছে ঘটনার বর্ণনায় বলেছেন ওসিমেন।
এরপর ছবি তোলার সময় কী ঘটেছিল, সেটির বর্ণনায় ওসিমেনের ভাষ্য, ‘আমি এরপর আমার ভ্যানের দিকে যাচ্ছিলাম, তখনই এই লোকগুলো হঠাৎ সামনে এসে আমার মুখের সামনে ক্যামেরা ধরল। আমি চমকে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করছিলাম তাদের যে কী হয়েছে, আপনারা আমার একেবারে মুখের সামনে এসে ক্যামেরা ধরছেন কেন! তাঁরা বললেন তাঁরা পাপারাজ্জি।’
তাঁর বন্ধুরাও তখন সাংবাদিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে দাবি ওসিমেনের, ‘(আমি তখন বললাম) ঠিক আছে, আপনারা চান-টা কী! তাঁরা তখন কিছু বললেন না, শুধু মুখের সামনে ক্যামেরা তাক করে রাখলেন। আমার বন্ধুরাও তখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলল, তাঁদের জানাল যে আপনারা এমনটা করতে পারেন না। আপনারা পেশাদার হয়ে থাকলে এসে সাক্ষাৎকারের জন্য অনুরোধ করতে পারতেন।’
ছবি ডিলিট করার অনুরোধ করলেও কারও গায়ে হাত তোলেননি বলেই দাবি ওসিমেনের, ‘আমি এই লোকটার গায়ে হাত তুলিনি। কখনোই গায়ে হাত তুলিনি। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বলেছিলাম যে আপনাকে এই ছবিগুলো সরাতে হবে, ডিলিট করতে হবে। ছবিগুলো আমার, এবং তাঁকে ছবি মুছে ফেলতে বলার পরিপূর্ণ অধিকার আমার আছে।’
নাইজেরিয়া জাতীয় দলে ওসিমেনের সতীর্থ, ডিফেন্ডার ওমেরুও-ও একই কথাই বলেছেন, ‘ও কখনোই তাঁকে (সাংবাদিক) স্পর্শ করেনি। আমি সেখানে ছিলাম।’
এমন পরিস্থিতিতে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানিয়েছেন ওসিমেন, ‘এসব ব্যাপার আমার কাছে নতুন তো নয়। জানতাম এই লোকগুলো মিথ্যা বলেই যাবে, বলেই যাবে। এটা (গায়ে হাত তোলা) তো সহিংসতার পর্যায়ে পড়ে, এমন কিছু নিয়ে তিনি মিথ্যা বলছেন। কিন্তু এটা এত সহজ হবে না তাঁর জন্য। আমার চিৎকার-চেঁচামেচির দরকার নেই, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব যাতে এটা নিশ্চিত হয় যে যদি আমি তাঁকে মেরে থাকি, তাহলে তিনি যাতে ন্যায়বিচার পান। আর যদি তিনি মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে তিনি বুঝবেন আইনের হাত কত শক্ত!’