রেয়াল মাদ্রিদের সুপার লিগ স্বপ্ন

তিনদিনেই দমে যাওয়া ‘বিদ্রোহ’ দিয়ে সব শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা তাদের?

লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস বলেছেন, ইউরোপিয়ান সুপার লিগের পরিকল্পনা দিয়ে ফুটবল ধ্বংস করার চেষ্টা করছে রেয়াল মাদ্রিদ।

২০২১ ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দিয়ে ইউরোপিয়ান সুপার লিগের (ইএসএল) ঘোষণা দেয় ইউরোপের বড় ১২টি ক্লাব। বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার সে পরিকল্পনা অবশ্য সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মুখ থুবড়ে পড়েছে দ্রুত।

মাত্র তিন দিনের মাথায় সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় ইংল্যান্ডের ছয় বড় ক্লাব। শুধু মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাই ইএসএল চালু করার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখেছিল। ইদানীং বার্সেলোনাও এই প্রকল্প থেকে নিজেদের কিছুটা সরিয়ে রেখেছে। লা লিগা সভাপতি সংবাদমাধ্যম এল পাইসের সঙ্গে কথোপকথনে তাই মাদ্রিদকে ধুয়ে দিয়েছেন।

নিজেকে মাদ্রিদ সমর্থক বলে দাবি করা তেবাস বলেছেন, ‘প্রথমে পরিষ্কার করতে হবে, এর পেছনে কারা আছে, যেটা ওরা কখনো বলতে চায় না: এটা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আমাদের তো নিজেদের চেহারা দেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত, এটা আসলে সিরিয়াস না, যখন দেখবেন তিন বছরে তিনটা ফরম্যাট দেওয়া হয়েছে। পেরেজ যেমন বলেছে, ফুটবলকে বাঁচানো, সে কথা সত্যি হলে এটা কখনোই করে না কেউ। আর একমন এক ফরম্যাট গ্রহণযোগ্য না যেখানে সুশাসনের কথা বলা হয় না। আর টেলিভিশন মডেলটাই দেখুন: একদিন বলা হচ্ছে ফ্রি, অন্যদিন সেটা মিশ্র, আরেকদিন তো কী বলছে জানিই না। পুরা সার্কাস।’   

২০২১ সালের এপ্রিলে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আতলেতিকো মাদ্রিদ, ইউভেন্তুস, ইন্তের মিলান, এসি মিলান, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, টটেনহাম- এই ১২টি ক্লাব ইএসএল এর ঘোষণা দেয়। বলা হয়েছিল ২০ দলের এক টুর্নামেন্ট শুরু হবে, যাতে প্রতিষ্ঠাতা ১৫টি দল সবসময় খেলবে। আর বাকি পাঁচটি ক্লাবকে বাছাই প্রক্রিয়া পার হয়ে প্রতিবছর আসতে হবে। কিন্তু তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের মুখে পিছু হটে নয়টি ক্লাব। পরে মূল প্রস্তাবকের একজন হয়েও সরে যায় ইউভেন্তুসও। তবে মাদ্রিদ সভাপতি পেরেজ এখনো সুযোগ পেলেই এই লিগ চালু করার প্রতিজ্ঞার কথা জানান।

তেবাস তাই পেরেজকে ধুয়ে দিয়েছেন, ‘এটা খুবই গুরুতর বিষয় হতো যদি এটা সম্ভব হতো, কিন্তু এটা সম্ভব না। এটা কষ্টদায়ক, কারণ চিন্তা করুন: সপ্তাহের মাঝে মুফতে খেলা দেখছেন, সপ্তাহান্তে জাতীয় লিগ দেখতে টাকা লাগবে? আপনার ধারণা স্পেনে মুফতে খেলা দেখানো সম্ভব? আমি নিশ্চিত এটা ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে। খেলাটাকে বাঁচাতে নয়, মনে হচ্ছে ফুটবলকে ধ্বংস করতেই এসেছে রেয়াল মাদ্রিদ।’