জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বার্সেলোনার মাঠে গিয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছিল ভালেন্সিয়া। লা লিগার ম্যাচটিতে ফেরমিন লোপেস-রবের্ত লেভানদফস্কি-রাফিনিয়াদের কাছে হেরেছিল ৭-১ ব্যবধানে। সে ম্যাচের ১১ দিনের মাথায় আবারও কাতালান ক্লাবটির মুখোমুখি হয়েছিল কার্লোস করবেরানের দল।
এবার প্রতিযোগিতা ভিন্ন, মাঠও নিজেদের। কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ছিল ঘরের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়াতে। কিন্তু মাঠ নিজেদের হলেও বড় হার এড়াতে পারেনি ভালেন্সিয়া। ফেরান তোরেসের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে ভালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে হানসি ফ্লিকের দল। একইসঙ্গে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছে বার্সা। কাতালানদের হয়ে অন্য গোলদুটি করেছেন ফেরমিন লোপেস ও লামিন ইয়ামাল।
আগের দিন রেয়াল মাদ্রিদের যেখানে জিততে ঘাম ছুটে গিয়েছিল, বার্সা সেখানে সহজ জয়েই কোপা দেল রের শেষ চারে উঠে গেল। লেগানেসের বিপক্ষে মাদ্রিদের ম্যাচটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ম্যাচটা ড্র (২-২) ছিল। যোগ করা সময়ে গনসালো গার্সিয়ার গোলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে মাদ্রিদ।
বার্সা ও মাদ্রিদ ছাড়াও এ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রেয়াল সোসিয়েদাদ। আগামী বুধবার শেষ চারের ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল এস্তাদিও দে মেস্তায়ায় ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের বয়স ৩ মিনিটও হয়নি, এর মধ্যেই গোল করে বসেন ফেরান তোরেস। মধ্যমাঠের বাঁ প্রান্তের একটু সামনে থেকে ভালেন্সিয়া বক্সের দিকে লম্বা করে বল বাড়িয়েছিলেন আলেহান্দ্রো বালদে। ছুটে গিয়ে প্রথম স্পর্শেই সেটা জালে পাঠিয়ে দেন তোরেস।
১৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যান ২৪ বছর বয়সী এ স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। এ গোলটা পেতে পারতেন ইয়ামাল। কিন্তু স্প্যানিশ তরুণ উইঙ্গারের শট ভালেন্সিয়া গোলকিপারের পা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফেরত এলে, ফিরতি শটে গোল করেন তোরেস। অবশ্য শুরুতে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজিয়েছিলেন। তবে ভিএআর যাচাইয়ে গোল পেয়ে যায় বার্সা।
দুই গোল দিয়েও সন্তুষ্ট থাকেনি বার্সা। ২৩ মিনিটে তৃতীয় বারের মতো গোল উৎসব করে ফ্লিকের দল। এবার মধ্যমাঠ থেকে বলের জোগান দেন পেদ্রি। এগিয়ে আসা ভালেন্সিয়া গোলকিপার স্তোলে দিমিত্রিভস্কিকে সহজেই বোকা বানিয়ে স্কোলাইন ৩-০ করে লোপেস।
পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণে ভালো একটা সুযোগ তৈরি করেছিল ভালেন্সিয়া। কিন্তু বার্সা গোলকিপার ভয়চেক সেজানির দৃঢ়তায় গোলপোস্ট অক্ষত থাকে কাতালানদের।
৩০ মিনিটে আবারও গোল পেয়ে যায় ফ্লিকের দল। পেদ্রির পাসে প্রথম স্পর্শে কাটব্যাক করেন রাফিনিয়া। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ঠিক লাইন থেকে ডান পায়ের নীচু শটে জালে বল জড়ান তোরেস। একই সঙ্গে পেয়ে যান হ্যাটট্রিকের দেখাও।
প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই স্কোরলাইন ৪-০! সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত ৯ বছরে বার্সা মাত্র দ্বিতীয়বার এ কীর্তি গড়ল। মজার বিষয়, দুবারই প্রতিপক্ষ একই! ১১ দিন আগে লা লিগায় ঘরের মাঠে ভালেন্সিয়াকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে প্রথম ২৪ মিনিটেই ৪ বার গোল উদযাপন করেছিল কাতালান ক্লাবটি। যদি শুধু প্রতিপক্ষের মাঠ বিবেচনায় নেওয়া হয়, অন্তত ২০০৪-০৫ মাস মৌসুম থেকে, দ্বিতীয় বারের মতো ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল দিল বার্সা।
গতকাল অবশ্য প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি ফ্লিকের দল। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে বার্সা। ৫২ মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ইয়ামাল। কিন্তু স্প্যানিশ তরুণের বাঁ পায়ের বাঁকানো শট দূরের পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটেই ইয়ামালকে গোলবঞ্চিত করেন ভালেন্সিয়া গোলকিপার।
তবে ৫৯ মিনিটে ঠিকই গোলের খাতায় নাম লেখান তিনি। রাফিনিয়ার দারুণ পাস থেকে বাঁ পায়ের নীচু শট নিয়েছিলেন ইয়ামাল। সেটা ভালেন্সিয়ার এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক বদলে আশ্রয় নেয় জালে। শেষ দিকে বার্সা আরও কিছু আক্রমণ শানালেও স্কোরলাইন আর বড় করতে পারেনি।