চলতি মাসের শুরুতেও বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। ২১ ম্যাচ শেষে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল বার্সা। আর ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে স্যান্ডউইচের ফিলিংয়ের মতো ছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সহজে ধরতে পারবে না কাতালান ক্লাবটি।
কিন্তু মাসের ১০ দিন না যেতেই সে চিত্রনাট্যে বড় বাঁকবদল হয়েছে। লিগে এস্পানিওলের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর গত পরশু ‘মাদ্রিদ ডার্বি’তে আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে ড্র করেছে আনচেলত্তির দল। পরপর দুই ম্যাচে রেয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট খোয়ানো আর সর্বশেষ ম্যাচে আতলেতিকোরও একই হালের পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে বার্সেলোনা। গতকাল সেভিয়ার মাঠে গিয়ে ১০ জনের দল নিয়েও ৪-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে হানসি ফ্লিকের দল।
এ জয়ে লিগের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে নিঃশ্বাস দূরত্বে চলে এসেছে বার্সা। ২৩ ম্যাচে ফ্লিকের দলের পয়েন্ট এখন ৪৮। আর সমান ম্যাচে মাদ্রিদ ও আতলেতিকোর পয়েন্ট যথাক্রমে ৫০ ও ৪৯। লিগের বাকি থাকা ম্যাচগুলোতে দুই মাদ্রিদের যেকোনো ম্যাচের ফল একটু এদিক সেদিক হলেই তালিকায় ওপরে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বার্সার।
স্কোরলাইন দেখে বার্সার গতকালের জয়টাকে সহজ মনে হলেও ম্যাচে নাটক কম হয়নি। স্তাদিও রামোন সানচেস-পিসহুয়ানে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে লেভানদফস্কির গোলে বার্সা এগিয়ে যাওয়ার পরের মিনিটেই সমতা ফিরিয়েছিল সেভিয়া।
এরপর টানা আক্রমণে বার্সার রক্ষণ দুর্গেও ফাটল ধরিয়েছিলেন ইস্যাক রোমেরো-রুবেন ভারগাস-সল নিগেসরা। তবে গোলকিপার ভয়চেক স্টেজনের দৃঢ়তায় গোলমুখ আর খুলতে পারেনি সেভিয়া। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার হয়ে একে একে গোলের খাতায় নাম লেখান ফেরমিন লোপেস, রাফিনিয়া ও এরিক গার্সিয়া।
এর মধ্যে লোপেসের ব্যাপারটা যেন একটা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরের মতো! দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে প্রথম স্পর্শেই গোলের দেখা পান ২১ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার। তবে মাঠে ১৫ মিনিটের বেশি থাকতে পারেননি লোপেস। ৬০তম মিনিটে সেভিয়ার ডিফেন্ডার জিব্রিলকে ফাউল করলে রেফারি শুরুতে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআর যাচাইয়ে হলুদ কার্ড তুলে নিয়ে সরাসরি লালকার্ড দেখান লোপেসকে। ব্যাপারটা এমন, মাঠে এলেন, গোল করলেন, লাল কার্ড দেখে ষোলোকলা পূর্ণ করলেন ১৫ মিনিটেই!
ম্যাচের বাকি এক তৃতীয়াংশ একজন কম নিয়ে খেললেও খুব একটা সমস্যা হয়নি বার্সার। শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্লিকের দল।
অবশ্য ৪৬ মিনিটে লোপেসের গোলে এগিয়ে (২-১) যাওয়ার পর আরও একদফা নাটকের সাক্ষী হয় পিসজুয়ান। পরের মিনিটেই আবার সমতা (২-২) ফিরিয়েছিল সেভিয়া। তবে গোল করার আগে লুকেবাকিয়ো অফসাইড পজিশনে থাকায় সে যাত্রায় বিপদে পড়তে হয়নি বার্সাকে।
লোপেস মাঠ ছাড়ার আগেই আরও একটি গোল পেয়েছে বার্সা। ৫৫ মিনিটে কুবার্সির পাস থেকে বল এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে জায়গা তৈরি করে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে ব্যবধান বাড়ান (৩-১) রাফিনিয়া।
এরপর বার্সার ১০ জনে পরিণত হওয়ার সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল সেভিয়া। তবে গোলকিপার স্টেজনির কল্যাণে গোলের দেখা পায়নি গার্সিয়া পিমিয়েন্তার শিষ্যরা। অন্যদিকে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে বার্সার হয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান এরিক গার্সিয়া।
১০ জনের দল নিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর বার্সা কোচ ফ্লিক বলেছেন, ‘এ জয়টার গুরুত্ব অনেক। ওরা (সেভিয়া) দুর্দান্ত ও সাহসী ফুটবল খেলেছে।’
নিজের শিষ্যদের প্রশংসা করতেও ভোলেননি ফ্লিক, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধেও আমাদের কাজটা ভালোভাবেই সামলেছি, কিন্তু ওই লাল কার্ডের পর আমাদের কাজটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ওদের (শিষ্যদের) লড়তে দেখাটা ভালো ছিল। ওরা যে ম্যাচিউরিটি দেখিয়েছে, সেটা ছিল দুর্দান্ত। আমরা রক্ষণ খুব ভালোভাবেই সামলেছি। সেজন্য আমি খুশি।’