বেলিংহামের লাল কার্ড নিয়ে তোলপাড়, দুই মাদ্রিদের পয়েন্ট হারানোয় লাভ বার্সেলোনার

লা লিগায় আগের টানা দুই ম্যাচ পয়েন্ট হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল রেয়াল মাদ্রিদের। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই গতকাল শনিবার আবারও পয়েন্ট হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এবার ওসাসুনার বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ১০ জনের রেয়াল মাদ্রিদকে।

এ ড্রয়ের পর লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানের নিয়ন্ত্রণ আর মাদ্রিদের হাতে রইলো না। যদিও ২৪ ম্যাচ শেষে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত সবার ওপরেই আছে আনচেলত্তির দল। গতকাল রাতে মাদ্রিদকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদ। কিন্তু সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে শীর্ষে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছে দিয়েগো সিমিওনের দল। এ ড্র-তে ২৪ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানেই থাকল আতলেতিকো।

দুই মাদ্রিদের পয়েন্ট হারানোতে সবচেয়ে বেশি লাভটা হয়েছে বার্সেলোনার। লিগে ২৩ ম্যাচ খেলা বার্সা ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে। তবে হাতে থাকা ম্যাচটা জিতলেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে যাবে কাতালান ক্লাবটি। সেক্ষেত্রে ২৪ ম্যাচ শেষে বার্সার পয়েন্ট মাদ্রিদের সমান ৫১ হলেও, গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ওপরে উঠবে হানসি ফ্লিকের দল।

তবে গতকাল রেয়াল মাদ্রিদের ড্র ছাপিয়ে আলোচনায় জুড বেলিংহামের ‘বিতর্কিত’ লাল কার্ড। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণের ঝড় তোলা মাদ্রিদ ১৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে (১-০) গিয়েছিল।

গোলের পর মাদ্রিদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। কিন্তু ভিনিসিয়ুস-এমবাপ্পেরা বারবার আটকে যাচ্ছিলেন ওসাসুনার ডি বক্সে। অবশ্য প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতর বেশ কয়েকটি ঘটনায় কয়েকদফা পেনাল্টির আবেদন জানিয়েছিল মাদ্রিদ। কিন্তু ম্যাচ রেফারি হোসে লুইস মুনুয়েরা মন্তেরো তা প্রত্যাখ্যান করে। উল্টো সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বেলিংহামকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি।

টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, রেফারিকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা বলছিলেন বেলিংহাম। ইংলিশ মিডফিল্ডারের মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ মনে করে লাল কার্ড দেখান মন্তেরো। ১০ জন হয়ে পড়ে মাদ্রিদ। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওসাসুনাও মাদ্রিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়তে থাকে দ্বিতীয়ার্ধে। এর মধ্যে ৫৮ মিনিটে আন্তে বুদিমিরের পেনাল্টি থেকে গোল শোধ করে ওসাসুনা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আর কোনো গোল না হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

গতকালের ম্যাচটিসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে সর্বশেষ তিন ম্যাচেই অন্তত একটি করে পেনাল্টি হজম করেছে মাদ্রিদ। এমনিতেই কয়েকদিন ধরে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিল মাদ্রিদ। গতকাল আবারও নিজেদের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে বেলিংহামের লাল কার্ড, মাদ্রিদের ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছে।

ম্যাচ শেষে রেফারির সমালোচনা করে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, ম্যাচে আমাদের শুরুটা ভালো হয়েছিল, একজন কম নিয়েও আমরা ভালোভাবে শেষ করেছি। আমাদের সর্বশেষ তিন ম্যাচে যা ঘটেছে, এটা সবাই দেখেছে। কিন্তু আমি এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি পরের ম্যাচে ডাগআউটের বেঞ্চে বসতে চাই।’

কিছু বলতে না চাইলেও একেবারে না বলেও থাকতে পারেননি রেয়াল মাদ্রিদ কোচ, ‘সর্বশেষ তিন ম্যাচে ভিএআর শুধু আমাদের পেনাল্টি বক্সের ঘটনাগুলো যাচাই করেছে, কিন্তু অন্যপাশের বক্সের দিকে নজর দিতে ভুলেই গিয়েছিল। সেখানের দুই-তিনটা ঘটনা ছিল, যেগুলো যাচাই করা দরকার ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।’

আনচেলত্তি যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে কোনো একটা সমস্যা আছে। সর্বশেষ তিন ম্যাচে এমন কিছু হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না।’ রেফারির সিদ্ধান্ত পক্ষে না গেলেও মৌসুমের শেষ পর্যন্ত নিজেদের সেরা রূপে দেখতে চান মাদ্রিদ কোচ, ‘আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ভালো খেলতে হবে আর আমরা সে চেষ্টাই করব।’

বেলিংহামকে লাল কার্ড প্রসঙ্গে রেফারির ভাষা বুঝতে না পারাকে দায়ী করেছেন আনচেলত্তি, ‘আমার মনে হয় রেফারি ইংরেজি ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি। এজন্য বেলিংহামকে লাল কার্ড দিয়েছে। বেলিংহামের কথা রেফারি বুঝতে পারেননি। কারণ স্প্যানিশে ওটার অনুবাদ, ‘আমার সঙ্গে লাগতে যেও না।’ এটা মোটেও আপত্তিকর ছিল না।’

আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘এ বিষয়ে আমি বেলিংহামের সঙ্গে নয়, বরং রেফারির সঙ্গে কথা বলার পক্ষে। জুড তখন প্রতিবাদ করে বলেছিল, ‘আমার সঙ্গে লাগতে যেও না।’ রেফারি নার্ভাস থাকায় এ লাল কার্ডটা দিয়েছে। বেলিংহামকে আমার কিছুই বলার নেই। ও মাঠে এমন কিছু করেনি, যার কারণে ওকে বাইরে পাঠানো হবে। মূলত রেফারি অনুবাদে ভুল করেছিলেন।’