বায়ের লেভারকুসেনের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি রেখা টানা হলো গতকাল শনিবার। বুন্দেসলিগায় মৌসুমের শেষ ম্যাচে মেইঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল লেভারকুসেন। এ ম্যাচেই জার্মান ক্লাবটির ডাগআউটে শেষবারের মতো দেখা গেছে শাবি আলোনসোকে।
পরের মৌসুমে স্প্যানিশ কোচ যোগ দেবেন রেয়াল মাদ্রিদে। তবে জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার আগে লেভারকুসেনকে নিয়ে নতুন একটা কীর্তি গড়েছেন শাবি। গতকাল মেইঞ্জের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে লেভারকুসেন। তাতে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা নিজেদের করে নিয়েছে শাবির দল!
লেভারকুসেনকে নিয়ে গত মৌসুমেই অবিশ্বাস্য ইতিহাস লিখেছেন শাবি। সাবেক এ স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের অধীনে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগা শিরোপা ও জার্মান কাপ জেতে লেভারকুসেন, সেটাও অপরাজিত থেকে।
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে লিগ শিরোপা হাতছাড়া করেছে। অন্যান্য ক্লাব যেমন ঘরের মাঠকে দুর্গ গড়ে তোলে- এ ক্ষেত্রে কিছুটা উল্টো পথে হেঁটেছে লেভারকুসেন। লিগে এ মৌসুমে তিনটা ম্যাচ হেরেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা, তিনটাই ঘরের মাঠে।
বুন্দেসলিগায় লেভারকুসেন অ্যাওয়ে ম্যাচে শেষবার হেরেছিল ২০২২-২৩ মৌসুমের শেষ ম্যাচে, বোখুমের মাঠে। এরপরই পরের মাঠকে দুর্গ বানিয়ে ফেলে শাবির দল। গত মৌসুমে তো ঘর কিংবা পর- কোনো ম্যাচেই হারেনি, চলতি মৌসুমেও পরের মাঠে রাজত্ব অব্যাহত রেখেছে জার্মান ক্লাবটি। গতকালের ম্যাচ শেষ হতেই প্রতিপক্ষের মাঠে টানা অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ডটি হয়ে গেল (২৩ জয়, ১১ ড্র)।
এর আগে বুন্দেসলিগায় এ রেকর্ডটা ছিল টানা ৩৩ ম্যাচের। ২০১১-১২ মৌসুমের ৩২তম ম্যাচ থেকে শুরু করে ২০১৩-১৪ মৌসুমের ২৭তম ম্যাচ পর্যন্ত অ্যাওয়ে ম্যাচে হারেনি বায়ার্ন।
বায়ার্নের এ রেকর্ডটা ছিল দুজন কোচের অধীনে- ইয়ুপ হেইঙ্কেস ও পেপ গার্দিওলা। আর লেভারকুসেন এ রেকর্ডটা গড়ল শুধু শাবির অধীনেই। শুধু একজন কোচের অধীনে অ্যাওয়ে লিগ ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ডটা উদো লাতেকের (২৭ ম্যাচ)। সাবেক জার্মান কিংবদন্তি কোচ বায়ার্ন (১৯৮৫-১৯৮৭) ও শালকেকে (১৯৯২-৯৩) নিয়ে এ রেকর্ড গড়েছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতেই সে রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন শাবি। লিগ ছাড়ার আগে সেটা বাড়িয়ে নিয়ে গেলেন ৩৪-এ।