প্রায় ভুলে যাওয়ার মতো একটা মৌসুম কাটিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপে যেন নিজেদের ফিরে পেতে শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে উইদাদ ও আল আইনকে উড়িয়ে দেওয়ার পর আজ ইংলিশ জায়ান্টদের প্রতিপক্ষ ছিল ইউভেন্তুস।
গ্রুপ জি থেকে নক আগেই নিশ্চিত হয়েছিল দুদলের। আজকের ম্যাচটি ছিল স্থান নির্ধারণীর। আর সে ম্যাচে ‘নিজেদের ফিরে পাওয়া’ ম্যান সিটির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইউভেন্তুস। ইতালিয়ান ক্লাবটিকে নাস্তানাবুদ করে সিটি ম্যাচটা জিতেছে ৫-২ ব্যবধানে।
তাতে গ্রুপ সেরা হয়ে নক আউটে উঠেছে পেপ গার্দিওলার দল। টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবগুলোই জেতা একমাত্র দলও সিটি। শেষ ষোলোতে ইংলিশ ক্লাবটির প্রতিপক্ষ আল হিলাল। অন্যদিকে আজকের হারে রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠা ইউভেন্তুসের প্রতিপক্ষ রেয়াল মাদ্রিদ।
সিটির হয়ে গোলগুলো করেছেন জেরেমি ডোকু, আর্লিং হালান্ড, ফিল ফোডেন ও সাভিনিয়ো। অন্য গোলটি আত্মঘাতী।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে গোল করে দারুণ এক কীর্তিতে নাম তুলেছেন হালান্ড। নরওয়েজিয়ান গোল মেশিনের আজকের গোলটি ছিল ক্লাব ও আন্তর্জাতিক গোল মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ৩০০তম গোল। এ মাইলফলক ছুঁতে হালান্ড ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের।
মাত্র ৩৭০ ম্যাচেই গোলের ট্রিপল সেঞ্চুরি হয়ে গেল হলান্ডের। ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচের দিক থেকে ৩০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে হালান্ড পেছনে ফেলেছেন রোনালদো (৫৫৪ ম্যাচ), মেসি (৪১৮ ম্যাচ) ও এমবাপ্পেকে (৪০৯ ম্যাচ)।
ম্যাচের শুরু থেকে গতিময় আগ্রাসী ফুটবল বল খেলা ম্যানসিটি গোল পেয়ে যায় নবম মিনিটেই। রায়ান আইত নউরির পাসে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে ইউভেন্তুস গোলকিপার দে গ্রেগরিওকে পরাস্ত করেন ডোকু। দুমিনিট পরেই অবশ্য ম্যাচে ফেরে ইগর তুদোর শিষ্যরা। এদেরসনের ভুল পাসে বল পেয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন তেউন কুপমেইনেরস।
এরপর থেকে বলতে গেলে সিটির সামনে আর দাঁড়াতেই পারেনি ইউভেন্তুস। ম্যাচটাকে একপেশে বানিয়ে একের পর এক গোল উৎযাপন করেছে সিটিজেনরা। একে একে গোলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন হালান্ড-ফোডেন-সাভিনিও। ম্যাচের শেষদিকে সান্ত্বনাসূচক আরেকটা গোল পেয়েছে ইউভেন্তুস।
পুরো ম্যাচে ম্যান সিটি কতটা দাপট দেখিয়েছে, সেটা পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ৭৬ শতাংশ বলের দখল রাখার পাশাপাশি ২৪টি শট নিয়েছিল গার্দিওলার দল, এর ১১টি ছিল গোলমুখে। অন্যদিকে ৫টি শট নিয়ে মোটে ২টি গোলমুখে রাখতে পারে ইউভেন্তুস।
প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়া পারফরম্যান্সের পর তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন পেপ গার্দিওলাও। ম্যান সিটি কোচ বলেছেন, ‘যেভাবে আমরা খেলেছি, সেটা আমার ভালো লেগেছে। অনেকদিন পর আমরা এত ভালো খেললাম। সেটা বল পায়ে হোক আর বল ছাড়াই। ফুটবলাররা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের একটা দলকে এভাবে হারাতে পেরে আমরা খুশি।’
৩০০ গোলের কীর্তি ছোঁয়ায় হলান্ডকেও শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘মাত্র ২৪ বছরেই ও ৩০০ গোল করে ফেলেছে। স্ট্রাইকার হিসেবে ওর প্রশংসা করি আমি। আর্লিংয়ের (হলান্ড) জন্য আমি খুশি। গোল ছাড়াও ও ছোট ছোট জায়গায় সম্পৃক্ত থাকে। এসব দারুণ ব্যাপার।’
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ৫২ মিনিটে ম্যাথিউস নুনেসের পাসে পা লাগিয়ে গোলটি করেন নরওয়েজিয়ান তারকা।