পর্তুগালে চ্যাম্পিয়নস লিগ নেওয়া সর্বশেষ অধিনায়ক আর নেই

চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তো শেষবার সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিল ২০০৩-০৪ মৌসুমে। ২১ বছর আগের ফাইনালে মোনাকোকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরার মুকুট জেতে পর্তুগিজ ক্লাবটি। জোসে মরিনিওর হাত ধরে পোর্তোকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন জর্জ কস্তা। শুধু পোর্তো নয়, পর্তুগালের হয়ে জাতীয় দলের জার্সিতেও ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন সাবেক এ সেন্টারব্যাক।

২০০৬ খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন কস্তা। ১৬টি ক্লাবের ডাগআউট সামলে গত বছরের জুলাইয়ে সাবেক ক্লাব পোর্তোর ফুটবল পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারলেন না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ক্লাবের ট্রেনিং সেন্টারে মারা গেছেন পোর্তোর সাবেক অধিনায়ক।

পোর্তোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে পোর্তো লিখেছে, ‘জীবনের শুরু থেকে মাঠের ভেতর এবং মাঠের বাইরে কস্তা যে মূল্যবোধ ধারণ করতেন, নিষ্ঠা, নেতৃত্ব, প্যাশন এবং জয়ের অদম্য স্পৃহা- এগুলো পোর্তোর চেতনার প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তিনি ভক্তদের মনে ছাপ রেখে গেছেন।’

এ নিয়ে এই গ্রীষ্মেই পোর্তোর সাবেক তিন ফুটবলার আকস্মিকভাবে মারা গেলেন। এর আগে মর্মান্তিক এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দিয়েগো জোতা ও তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভা। এর মধ্যে জোতা পোর্তোতে ধারে খেলেছেন, আর সিলভা পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ার শুরুই করেছিলেন পোর্তোর জার্সিতে।

কস্তার মৃত্যুর সংবাদে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তাঁর সাবেক কোচ মরিনিও। বর্তমানে ফেনারবাচের দায়িত্বে আছেন মরিনিও। আজ চ্যাম্পিয়নস লীগের বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ফেইনুর্দের মুখোমুখি হবে ফেনারবাচ। এ ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে সাবেক শিষ্য কস্তাকে স্মরণ করে মরিনিও বলেন, ‘ও যদি এখন আমার সাথে কথা বলতে পারত, তবে বলত, “এখন সংবাদ সম্মেলন করুন, আগামীকালের ম্যাচটা জিতুন আর আমার কথা ভুলে যান।”’

মরিনিও যোগ করেন, ‘আজ এবং আগামীকাল আমি আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। এরপর কাঁদব।’

পোর্তোর ওই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী দলে খেলেছিলেন ডেকো। কস্তার সাবেক সতীর্থ বলেছেন, ‘আজ পর্তুগিজ ফুটবল এবং এফসি পোর্তো তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে হারাল। একজন কিংবদন্তি অধিনায়ক, যিনি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন। একসঙ্গে এতগুলো শিরোপা এবং আনন্দময় মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াটা ছিল গর্বের। তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পুরো পরিবারকে আমার গভীর সমবেদনা।’

পোর্তোর একাডেমি থেকে উঠে এসে ক্লাবটির জার্সিতে সব মিলিয়ে ৩২৪টি ম্যাচ খেলেছেন কস্তা। ২০০৫ সালে ক্লাব ছাড়ার আগে এ ক্লাবটির হয়ে একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, একটি উয়েফা কাপ ও আটটি প্রিমেইরা লিগ শিরোপাসহ মোট ২৪টি শিরোপা জেতেন। এছাড়া ২০০০ সালে পর্তুগিজ লিগের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পর্তুগিজ গোল্ডেন বল জেতেন কস্তা।