প্রায় দুই বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এ হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত আরও বহু মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অনেকে। পুরো গাজা-ই যেন ধ্বংসস্তূপ। অপুষ্টি ও অনাহার বেড়েছে সমানতালে। ত্রাণ চাহিদাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।
কিন্তু ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রায়ই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। এবার প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনের সাবেক ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবায়েদ।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। গত বুধবার ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় থাকা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানেই মারা যান ওবায়েদ।
৪১ বছর বয়সী ওবায়েদ ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ নামে পরিচিত। তাকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা তারকা উল্লেখ করে পিএফএ-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ওবায়েদ ১০০-এর বেশি গোল করেছেন, যা তাঁকে ফিলিস্তিন ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।’
১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ গাজায় জন্ম নেন ওবায়েদ। পরবর্তীতে খাদামাত আল-শাতির হয়ে পেশাদার ফুটবল শুরু করেন। এরপর পশ্চিম তীরের মার্কাজ শাবাব আল-আম’আরি এবং গাজা স্পোর্টস ক্লাবের জার্সিতেও খেলেছেন।
২০০৭ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ওবায়েদ। দেশের জার্সিতে দুটি গোলও করেছেন ফরোয়ার্ড ও রাইট উইংয়ে খেলা এ ফুটবলার। ২০১০ সালে ওয়েস্ট এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়েমেনের বিপক্ষে স্কিসর কিকে গোল করেছিলেন ওবায়েদ, যা তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে স্মরণীয় গোল। মাঠে দুর্দান্ত প্রতিভার জেরে তিনি ফিলিস্তিনি পেলে নামে পরিচিতি লাভ করেন।
ওবায়েদসহ এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি হামলায় ৬৬২ জন ক্রীড়াবিদ ও তাঁদের স্বজন মারা গেছেন। পিএফএ উল্লেখ করেছে, ‘(ফিলিস্তিনি হামলায়) মারা যাওয়া কিংবা অনাহারে মৃত্যুবরণকারী ফুটবলারের সংখ্যা ৪২১ এ পৌঁছেছে, এর মধ্যে ১০৩ জন শিশু।’
পিএফএ-র তথ্যানুসারে, ইসরায়েলি হামলায় গাজা ও পশ্চিম তীরের ২৮৮টি ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।