ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচারে হামলার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা যায় কি না- এ নিয়ে গত মাসের শুরুতে আলোচনা হয়েছিল উয়েফায়। ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের ইস্যুতে গণভোট আয়োজন করার কথাও ভেবেছিল উয়েফা। কিন্তু ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ভোটটি আর হয়নি।
সে ঘটনার এক মাস পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের ইস্যু। ইউরোপের সকল প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের বিষয়ে উয়েফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানো হবে কিনা, সে বিষয়ে আজ শনিবার ভোট দেবে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই)। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আয়ারল্যান্ডের বেশ কয়েকটি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) উয়েফার সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা লঙ্ঘন করেছে। একটি হলো, ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুমতি ছাড়াই ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের দখলকৃত ক্লাব পরিচালনা করছে আইএফএ। আর দ্বিতীয় অভিযোগ- আইএফএ একটি কার্যকর বর্ণবাদ বিরোধী নীতি বাস্তবায়ন ও সেটি প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রস্তাবনায় আরও একটি দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রকাশ করতে হবে উয়েফাকে।
আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার এ প্রস্তাবনার ভোটটি শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে উয়েফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের কোনো মন্তব্য নয়।
উয়েফা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবটি তুলেছে মূলত আয়াল্যান্ডের ক্লাব বোহেমিয়ান এফসি। ক্লাবটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ল্যামবার্ট রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ লঙ্ঘন। গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়মগুলো একেবারেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। আশা করছি, অন্য ক্লাবগুলোর সমর্থনে প্রস্তাবটি গৃহীত হবে।’
শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে উয়েফা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিতের কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত ভোটটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। কিছুদিন পর তুরস্ক ও নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও একই দাবি জানানো হয়েছিল।
এবার একই দাবি তুলতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড। অবশ্য গাজা অভিযান ইস্যুতে আগে থেকেই ইসরায়েলের কড়া সমর্থক আয়ারল্যান্ড সরকার। দেশটি গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দখলকৃত ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।



