ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু আর্লিং হলান্ডের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ইসরায়েল গোলকিপার দানিয়েল পেরেতস। তবে শট নেওয়ার আগেই গোললাইন থেকে এগিয়ে গিয়েছিলেন বলে পুনরায় শট নেওয়ার সুযোগ পায় নরওয়ে। হলান্ডের শট দ্বিতীয় দফাতেও ঠেকান ইসরায়েল গোলকিপার।
এমন বিভীষিকাময় শুরুর পরও দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে রাতটা নিজের করে নিয়েছেন হলান্ড। ম্যানসিটিতে খেলা এ স্ট্রাইকারের হ্যাটট্রিক আর দুই আত্মঘাতী গোলে ভর করে নরওয়ে ম্যাচটা জিতেছে ৫-০ ব্যবধানে। একইসঙ্গে ১৯৯৮ সালের পর আরেকটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার খুব কাছাকাছি চলে গেছে নরওয়ে।
হলান্ডের দুই পেনাল্টি মিস, পরে হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে নরওয়ে- সব ছাপিয়ে গেছে অলসোতে ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ। ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানোর প্রতিবাদে স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থীরা। বিক্ষোভ দমাতে এক পর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজায় হামলার প্রতিবাদে এ ম্যাচটি বয়কটের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন নরওয়েজিয়ান সমর্থকেরা। ম্যাচের আগে প্রতিবাদ বিক্ষোভে রূপ নিতে থাকে। শত শত ফিলিস্তিনপন্থী নরওয়ে সমর্থক শুরুতে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের গায়েই ফিলিস্তিন জাতীয় দলের জার্সি দেখা গেছে।
জোহান নামের নরওয়েজিয়ান এক সমর্থক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এ ম্যাচটি হওয়াই উচিত ছিল না। (ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে) যদি রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে ইসরায়েলকেও নিষিদ্ধ করা উচিত।’
সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা উলেভাল স্টেডিয়ামের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হয়ে ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় তাঁদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও মশাল দেখা গেছে। আশপাশের ভবনগুলোর বেলকনিতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানো ব্যানার টানানো ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন পুলিশ। দর্শকদের ব্যাগ তল্লাশি চালান তারা। পাশাপাশি মাঠে সীমিত সংখ্যক দর্শক প্রবেশের অনুমতি পান।
নরওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালালে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেশটির বার্তা সংস্থা এনটিবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।



