২৪ বছর পর দলটাকে সামনে পেতেই ইতিহাস বদলে দিল মাদ্রিদ

দুই যুগ পর লা লিগায় প্রমোশন পেয়েছে রেয়াল ওভিয়েদো। স্প্যানিশ শীর্ষ লিগে প্রত্যাবর্তনটা অবশ্য সুখকর হয়নি দলটির। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে ভালেন্সিয়ার কাছে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন- রেয়াল মাদ্রিদ। তবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান ম্যাচের আগে আশা দেখাচ্ছিল ওভিয়েদোকে!

লা লিগার ম্যাচে ওভিয়েদোর মাঠে গিয়ে দলটার বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ চার ম্যাচের একটাতেও জিততে পারেনি (৩ ড্র, ১ হার) লস ব্লাঙ্কোরা। শুধু তাই নয়, লিগ ম্যাচে কারবায়োন (মূল নাম স্তাদিও মিউনিসিপাল কার্লোস তার্তিয়েরে) স্টেডিয়ামে ১৯৫২ সালের পর থেকে কখনো জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি মাদ্রিদ। গতকালের আগে ওই মাঠে খেলা ৮ ম্যাচ ৩ ড্রয়ের বিপরীতে ৫ টিতেই হেরেছে মাদ্রিদ।

পরিসংখ্যানের এমন চোখরাঙানি মাথার ওপর রেখে গতকাল রাতে কারবায়োনে ওভিয়েদোর বিপক্ষে খেলতে নামে মাদ্রিদ। দুঃস্বপ্নের অতীত একদিকে সরিয়ে ম্যাচটাকে একপেশে বানিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী দলটার নামও মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়ের গোলে ওভিয়েদোকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন শাবি আলোনসোর শিষ্যরা।

এ জয়ে ওভিয়েদো কিংবা কারবায়োনে জয়খরা কাটানোর পাশাপাশি আরও একটা কীর্তি গড়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর এই প্রথম লিগের প্রথম দুই ম্যাচে গোল হজম করেনি মাদ্রিদ। চলতি শতাব্দীতে মৌসুমের এমন শুরু মোটে চতুর্থ বার পেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

গতকাল অবশ্য ম্যাচের শুরুতে চমক দেখিয়েছেন শাবি। ভিনিসিয়ুসকে বেঞ্চ করে শুরুর একাদশে নামান রদ্রিগোকে। এ ম্যাচে শুরুর একাদশে প্রথমবারের মতো নামান ১৮ বছর ১০ দিন বয়সী আর্জেন্টাইন সেনসেশন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োকে। তাতে মাস্তানতুয়োনোর নামটাও উঠে যায় মাদ্রিদের রেকর্ড বইয়ে। ২০০৫ সালের পর মাদ্রিদের শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় এখন মাস্তানতুয়োনো।

৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলা মাদ্রিদ গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ওভিয়েদোর রক্ষণে। কিন্তু গোলের জন্য শাবির দলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। মধ্যমাঠের কিছুটা সামনে থেকে আরদা গুলাশের বাড়ানো থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের শরীরটাকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরান এমবাপ্পে। এরপর বক্সে ঢুকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে ওভিয়েদোর জালে বল জড়ান ফরাসি তারকা।

১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধেও একই গতিতে খেলতে থাকে শাবির দল। কিন্তু কোনোভাবেই আর গোল পাচ্ছিল না মাদ্রিদের ক্লাবটি। ৮৩ মিনিটে গিয়ে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে। বদলি নামা ভিনিসিয়ুসের পাসে স্কোরলাইন ২-০ করেন এমবাপ্পে। আর যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিয়ুস। তাতে স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ।