আফকনে মুখোমুখি সালাহ-মানে

২০২৩ পর্যন্ত ৬ বছর ছিলেন একে অন্যের পাশে, এবার দুজন ‘শত্রু’

সাউদাম্পটন থেকে ২০১৬ সালে লিভারপুলে যোগ দেন সাদিও মানে। পরের বছর এএস রোমা থেকে লিভারপুলে নাম লেখান মোহামেদ সালাহ। বলতে গেলে সেই থেকে ২০২৩ পর্যন্ত দুই আফ্রিকান তারকা সামলেছেন রেড ডেভিলদের আক্রমণভাগ। একসঙ্গে লিভারপুলকে এনে দিয়েছেন বেশ কয়েকটি শিরোপাও।

মানে এরপর বায়ার্ন ঘুরে এখন সৌদি ক্লাব আর নাসরে খেলছেন। আর সালাহ আছেন লিভারপুলেই। দুই বন্ধুর গতিপথ আলাদা হলেও আফ্রিকান কাপ অব নেশনস দুজনকে আবার এক করে দিচ্ছে। তবে বন্ধু বা সতীর্থ হিসেবে নয়, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে একে অন্যের মুখোমুখি হবেন সালাহ ও মানে।

কাজটা একদিন আগেই অর্ধেক সেরে রেখেছিল মানের সেনেগাল। গত শুক্রবার রাতে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে মালিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছিলেন মানেরা। আর গতকাল শনিবার রাতে উত্তাপ ছড়ানো আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে সালাহর মিসর। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার মুখোমুখি হবে মিসর-সেনেগাল।

মিসরকে সেমিফাইনালে তোলার পথে গতকাল দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন সালাহ। নিজে এক গোল করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি গোল হলো সালাহর। 

অবশ্য টুর্নামেন্টে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয়টা সহজ ছিল না। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে ইমাম আশুরের ডিফেন্সচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে মিসরকে এগিয়ে দেন ওমর মারমুশ। ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রামি রাবিয়া। সালাহর নেওয়া কর্নারে রাবিয়ার হেড খুঁজে নেয় আইভরি কোস্টের জাল।

২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও স্বস্তিতে ছিল না মিসর। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট আগে আত্মঘাতী গোল হজম করে তারা। তবে বিরতির পর ৫২ মিনিটে আশুরের আরেকটি দুর্দান্ত পাসে বক্সের ভেতর থেকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন সালাহ।

৭৩ মিনিটে ব্যবধান আবার কমিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িযে দেয় আইভরি কোস্ট। এবার মিসর বক্সের ভেতর জটলা থেকে গোল করেন গুয়েলা দুয়ে।

শেষ দিকে দুদলই বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বটে। কিন্তু কেউ আর জাল খুঁজে পায়নি। তাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের যাত্রা থেমে যায় শেষ আটেই, আর সেমিফাইনালের টিকিট পায় মিসর।