বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও ট্রাম্প ঘোষিত প্রথম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকায় ইরান ও হাইতির সমর্থকেরা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। গত মধ্য ডিসেম্বরে আফ্রিকান আরও দুই দেশের ভাগ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা থাকা দেশগুলোর তালিকায় যোগ হয় সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের নাম। এতে এ দুই আফ্রিকান দেশের সমর্থকদেরও বিশ্বকাপ দেখার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নেই, তাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশ দুটির সমর্থকেরা।
মরক্কোতে চলমান আফ্রিকা কাপ অব নেশনস দেখতে গিয়ে সেখানেই নিজেদের হতাশার কথা জানান তারা। আফকনে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মিসরের মুখোমুখি হবে সেনেগাল। মরক্কোতে দলকে সমর্থন দিতে হয়ে বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে আলাপকালে সেনেগাল সমর্থক জিব্রিল গিয়ে বলেছেন, ‘আমি বুঝি না, কেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কিছু নির্দিষ্ট দেশের দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চান না। যদি সেটাই হয়, তাহলে তাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ দেওয়াই উচিত হয়নি।’
মরক্কোর এ সমর্থক আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া প্রতিটি দেশের সমর্থক সেখানে গিয়ে নিজেদের দলকে যাতে সমর্থন দিতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে ‘স্ক্রিনিং ও যাচাই প্রক্রিয়ার ঘাটতি’কে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। তবে সমর্থকদের জন্য ছাড়ের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
সেনেগালের নারী সমর্থকদের একটি দলের সভাপতি ফাতু দিয়েদিও বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই খেলা দেখতে চাই, কিন্তু কীভাবে দেখব জানি না। এখন শুধু অপেক্ষা করছি। কারণ বিশ্বকাপ তো এখনো শুরু হয়নি— হয়তো তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। আমরা জানি না (বদলাবে কি না)। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি।’
সেনেগাল আসন্ন বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্স ও নরওয়েকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে। আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে সেনেগাল। চারদিন পর একই স্টেডিয়ামের নরওয়ের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার দেশটি। আর ২৬ জুন টরন্টোতে বলিভিয়া, সুরিনাম ও ইরাকের মধ্যকার প্লে-অফ বিজয়ীর বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেনেগাল।
অন্যদিকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরেক আফ্রিকান দেশ আইভরি কোস্টেরও গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ম্যাচ আছে। ১৪ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আইভরি কোস্ট। টরন্টোতে জার্মানির বিপক্ষে খেলার পর ২৫ জুন আবার ফিলাডেলফিয়ায় কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হবে তারা।
আইভরি কোস্টের কোচ এমারসে ফায়ে আশাবাদী, বিশ্বকাপের আগেই সমর্থকদের ব্যাপারে একটা সমাধান বের হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আফকনেও মরক্কোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইভরি কোস্টের সমর্থকেরা প্রায় একই ধরনের ভিসা সমস্যায় পড়েছিল।
সে প্রসঙ্গে টেনে এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইভরি কোস্টের কোচ বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত সবকিছু খুব ভালোভাবেই সমাধান হয়েছিল। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মধ্যে বিষয়টি ঠিক হয়ে যাবে।’
এমারসে যোগ করেন, ‘ফুটবল একটা উৎসবের মতো, বিশ্বকাপও একটা উৎসব। বিশেষ করে চার বছর পরপর একবারই যেহেতু বিশ্বকাপ আসে, তাই আমাদের সমর্থকদের এই উৎসব উপভোগ করতে না দিলে, সেটা সত্যিই দুঃখজনক হবে।’
এদিকে ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে বিশ্বকাপে সম্ভবত সীমিত সমর্থন নিয়েই খেলতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাঠে তাদের সমর্থন দেবেন কারা? যারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যাদের কাছে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আছে, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কিংবা যারা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নন।