গত অক্টোবরে এল ক্লাসিকোতে রেয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর থেকেই যেন জয় ভিন্ন অন্য কোনো ফলের কথা ভুলে গিয়েছিল বার্সেলোনা। এরপর থেকে লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচ ও সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ খেলে ১১টিতেই শেষ হাসি হাসে হানসি ফ্লিকের দল।
অবশেষে বার্সার জয়রথ থেমেছে গতকাল রোববার। লা লিগার ম্যাচে স্তাদিও মিউনিসিপাল দে আনোয়েতায় ১০ জনের রেয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বার্সা। হারের পর রেফারির দিকে আঙুল তুলে তাঁকে ‘অহংকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বার্সা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও কোচ হানসি ফ্লিক।
এদিকে গতকাল ‘লা রেয়াল’ নামে পরিচিত সোসিয়েদাদের কাছে বার্সার হারে সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা আরেক রেয়াল- মাদ্রিদের!
সেটা কীভাবে? অক্টোবরে ওই এল ক্লাসিকোর পর বার্সার চেয়ে ৫ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল রেয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু নভেম্বরে দুর্দশা শুরু হয় লস ব্লাঙ্কোদের। এক পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান তো হাতছাড়া হয়-ই, বার্সার চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ে মাদ্রিদ। তবে গত শনিবার লেভান্তের বিপক্ষে জয়ের পর সে ব্যবধান কমিয়ে ১-এ নামায় আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা।
বার্সা গতকাল সোসিয়েদাদকে হারাতে পারলে, সেই ব্যবধান বেড়ে আবারও ৪-এ যেত। কিন্তু বার্সা হেরে যাওয়ায় এখন কাতালান ক্লাবটির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে মাদ্রিদ। গতকালের হারে ২০ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৪৯-এই থাকল। সমান ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আরবেলোয়ার দল।
গতকালের ম্যাচে ২৫ সেকেন্ডেই বার্সার জালে বল জড়িয়েছিলেন ওইয়ারসাবাল। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বৈধতা পায়নি। পরে ৩২ মিনিটে ওইয়ারসাবালের গোলেই এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। ৭০ মিনিটে রাশফোর্ডের গোলে বার্সা সমতায় ফিরলেও পরের মিনিটেই আবার এগিয়ে (২-১) যায় পেলেগ্রিনো মাতারাসোর শিষ্যরা।
শেষদিকে পেদ্রিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সোসিয়েদাদের কার্লোস সোলের। কিন্তু সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বার্সা।
অবশ্য গতকাল ভাগ্যকেও পাশে পায়নি ফ্লিকের দল। বার্সার দুটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের ফাঁদে। এছাড়া আরেকটি গোল বৈধতা পায়নি আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটা পেনাল্টি পেলেও ভিএআর যাচাইয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ম্যাচ বার ও পোস্টে লেগেছে বার্সার ৫টি শট।
এমন ম্যাচের পর রেফারির দিকে আঙুল তুলেছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। রেফারি জেসুস গিল মানসানোকে ‘অহংকারী’ বলেছেন তিনি।
ডাচ এ মিডফিল্ডারের মতে, গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই, তার চেয়েও বেশি ক্ষুব্ধ রেফারির আচরণে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডি ইয়ং বলেছেন, ‘যদি অফসাইড দেওয়া হয়, তাহলে অফসাইডই। আমি নিজে এখনো দেখিনি। তবে আমাদের বলা হয়েছে, ওটা অফসাইড ছিল না। কিন্তু যেটা বলতে চাচ্ছি- রেফারির সঙ্গে কথাই বলা যাচ্ছিল না। বিষয়টা আমার মাথায় ঢুকছে না। অথচ আমি একটা দলের অধিনায়ক।’
রেফারির নিয়ে ডি ইয়ং আরও বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন তিনি আমার চেয়ে অনেক বড় কিছু। এটা ভীষণ হতাশার। আপনি এমন আচরণ করতে পারেন না।’
ডি ইয়ং আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে ৯ মিনিট অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছিল। ওই ৯ মিনিট শেষ হতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজান। অথচ প্রতিপক্ষ দল সময় নষ্ট করলেও সেটা আমলে নেননি বলে অভিযোগ বার্সা মিডফিল্ডারের, ‘যোগ করা সময়ে আমি রেফারিকে বলছিলাম, সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে। (সোসিয়েদাদ) থ্রো-ইন, গোল কিক নিতে এক মিনিট করে সময় নিচ্ছিল— এটা অবশ্য স্বাভাবিক। কিন্তু এরপরও (বাড়তি) এক সেকেন্ডও না বাড়ানোর বিষয়টা আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। রেফারিকে এটা নিয়ে বলতেই তিনি আমাকে হলুদ কার্ড দেখান। মানে, এই রেফারির সঙ্গে কথা বলাই যায় না।’
বেশিরভাগ সময় রেফারির সমালোচনা এড়িয়ে চললেও গতকাল ডি ইয়ংয়ের কণ্ঠেই সুর মিলিয়েছেন ফ্লিক, ‘ফ্রেঙ্কি যেটা বলেছে, আমি শুনেছি। এবং সে ঠিকই বলেছে। তবে আমি এই লোকটার পেছনে সময় নষ্ট করতে চাই না। টেলিভিশনে এবং গ্যালারিতে থাকা সবাই তার পারফরম্যান্স দেখেছে। আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। এটাই বাস্তবতা।’
রেফারির আচরণকে অহংকারী মনে হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লিক বলেছেন, ‘সবাই এটা জানে। এমনকি ম্যাচের আগেও আমি এ বিষয়ে মন্তব্য পড়েছি। বিষয়টা এমনই। আমি সাধারণত রেফারিদের সম্পর্কে ভালো কথাই বলি, কারণ লা লিগায় অনেক ভালো রেফারি আছেন। কিন্তু ফ্রেঙ্কি ঠিক বলেছে। তবু আমাদের মেনে নিতে হবে। ভালো না লাগলেও বিষয়টা মানতেই হবে।’