২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী

এখনো বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে না তারা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। যেকোনো মূল্যে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলটি দখল করতে চান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের এমন প্রচেষ্টার সরাসরি বিরোধিতা করেছে জার্মানি, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ। 

সম্প্রতি এমন আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। জার্মানি থেকে আবার পাল্টা হুমকি দেশটির রাজনীতিবিদেরা। তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বিশ্বকাপ বয়কটও করতে পারে জার্মানি

তবে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে না ফ্রান্স সরকার।

ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেছেন, ‘এখন যা অবস্থা, দুর্দান্ত এই প্রতিযোগিতা বয়কটের কোনো ইচ্ছে নেই মন্ত্রণালয়ের। ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সেটা আগাম অনুমান করতে চাই না। তবে কিছু রাজনৈতিক দল থেকে ভিন্নমত শুনেছি।’

ফরাসি এ ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদাই রাখা উচিত। ক্রীড়া প্রেমী মানুষদের জন্য বিশ্বকাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা মুহূর্ত।’

এদিকে বুধবার এক বক্তৃতায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান তিনি। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট এটাও উল্লেখ করেছেন, ‘তিনি বল প্রয়োগ করবেন না।’

খনিজ সমৃদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলটি দখলে ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। জার্মানির রাজনৈতিক নেতাদের মতো ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনীতিবিদ এরিক কোকেরেল চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করাতে আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি ২৬টি ম্যাচ হবে কানাডা ও মেক্সিকোতে।

এদিকে যে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প, সেই ডেনমার্ক এখনো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি। তা বাছাইপর্বের ঝক্কি পেরিয়ে ডেনমার্ক যদি বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তাহলে কি তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে?

এ প্রসঙ্গে ডেনিস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক ব্রগার রাসমুসেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘এখনকার সংবেদনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবশ্যই অবগত। অন্যান্য সবার মতো, আমরাও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য, মার্চে (প্লে অফের) ম্যাচ দুটি জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করা।’

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা নিয়ে ইউরোপীয় অঞ্চলের ফুটবল নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ফুটবলের মাধ্যমে কীভাবে এটার প্রতিক্রিয়া দেখানো যায়, সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন তারা।

গত মাসে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফার বিশেষ শান্তি পুরস্কার তুলে দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ওই সময় ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে ট্রাম্পকে ফিফার বিশেষ এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। তবে ফিফার ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ওই সময় ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা সমালোচনা করেন।

এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লেইড কামরির ২৬ জন রাজনীতিক একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। ওই প্রস্তাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে দেশটিকে (যুক্তরাষ্ট্রকে) বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

তাদের মতে, ‘শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর আইন লঙ্ঘনকে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।’ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে খেয়ালখুশি মতো গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছে পোষণ করেছেন, এসব ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।’