প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউরোপীয় ফুটবলকে পাল্টে দেওয়ার এক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ইউরোপীয় সুপার লিগ নামের সেই প্রকল্প তখন তুমুল বিতর্ক তৈরি করে। এরপর একাধিক ক্লাবের সরে যাওয়া এবং আইনি লড়াই শেষে আজ চূড়ান্তভাবে এই লিগ বন্ধ হয়ে গেল।
রেয়াল মাদ্রিদ এবং উয়েফা আজ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পর সুপার লিগের পথ একেবারেই বন্ধ হলো। এই চুক্তি প্রায় পাঁচ বছরের বিরোধের সমাপ্তি এনেছে, যা ইউরোপীয় ফুটবলকে পুনর্গঠন করার ঝুঁকিতেও ফেলেছিল।
রেয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেস এই বিচ্ছিন্ন লিগের প্রধান চরিত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন। সুপার লিগটি ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রাথমিক প্রস্তাবের মধ্যে ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ ক্লাব। তবে ছয় ক্লাবের বিশাল ভক্ত ও সরকারি চাপের কারণে কয়েক দিনের মধ্যে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় তারা।
চরম সমালোচনার মাঝেও রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা সুপার লিগ চালু করার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং উয়েফার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়। রেয়াল মাদ্রিদ লিগ গঠনের চেষ্টা বন্ধ করার জন্য উয়েফার বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল।
বার্সেলোনা গত সপ্তাহে এই বিতর্কিত লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর আজ রেয়াল মাদ্রিদও নিশ্চিত করেছে যে তারা এই লিগ নিয়ে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে যে এই চুক্তি মূলত মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট পেরেস এবং পারি সাঁ জার্মেইঁ-এর সভাপতি ও ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসের আল খেলাইফির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ দেখেছে।
রেয়াল মাদ্রিদ সুপার লিগ থেকে সরে আসার ব্যাখ্যায় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য পরিচালিত কয়েক মাসের আলোচনা শেষে, উয়েফা, ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাব এবং রেয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব ঘোষণা করছে যে তারা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের স্বার্থের জন্য একটি মৌলিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। যেখানে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ও ভক্তদের অভিজ্ঞতা প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে, এই মৌলিক চুক্তি ইউরোপীয় সুপার লিগ সম্পর্কিত তাদের আইনি বিরোধও সমাধান করবে।’