বার্সার বড় হার

দুঃস্বপ্নের মতো এক রাত দেখল দলটা

গতকাল রাতে স্প্যানিশ কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয়েছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। আর সে ম্যাচে বার্সাতে রীতিমতো ধসিয়ে দিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

সৌদি আরবের রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটানোতে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৪-০ ব্যবধানে জিতেছে আতলেতিকো। দিয়েগো সিমেওনের দলের হয়ে গোলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন গ্রিজমান, লুকমান ও আলভারেস। ম্যাচের অন্য গোলটি আত্মঘাতী। আর চারটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে।

ধারে প্রায় সমানে-সমান দুই দল, নামের ভারে বরং বার্সাই এগিয়ে। সেই লড়াইয়েই আতলেতিকো এভাবে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল বার্সাকে! এমন রাত আসতে পারে, সেটা হয়তো দু:স্বপ্নেও ভাবেনি দলটা! ২২ বছরে এমন রাত যে এর আগে বার্সা দেখেছে শুধু একবার। কীভাবে? সেটা রেকর্ডবই বলবে। ২০২৪-০৫ মৌসুমের পর এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করল বার্সা। মাঝের এই সময়টাতে এমনটা হয়েছিল শুধু ২০২০ সালের আগস্টে (বায়ার্নের কাছে ৮-২ ব্যবধানে হারা ম্যাচে)।

গতকাল ম্যাচে বার্সার যে কোনোকিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না, সেটা প্রথম গোলের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ৬ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া ব্যাক পাস দিয়েছিলেন গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়াকে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ওই বলে পা লাগাতে পারলেন না বার্সা গোলকিপার। একটু পর নিজেকে সামলে অবশ্য গোললাইনের দিকে যাওয়া বল থামাতে চেষ্টা করেছিলেন গার্সিয়া, কিন্তু সেই চেষ্টা বৃথা গেছে।

১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্রিজমান। ৩৩ মিনিটে তৃতীয় গোলের দেখা পায় আতলেতিকো। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের ঠিক ভেতরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন আলভারেস।

প্রথমার্ধেই ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বার্সা দ্বিতীয়ার্ধে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন এরিক গার্সিয়া। তাতে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে ওঠে ২৫ বছর বয়সী এ ডিফেন্ডারের নাম। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর বার্সার ইতিহাসে গার্সিয়াই প্রথম ফুটবলার, যিনি একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করার পাশাপাশি লাল কার্ড দেখেছেন। গার্সিয়ার মতো রাতটা নিশ্চিতভাবে ভুলে যেতে চাইবে বার্সেলোনাও।