২০২৩ সালে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার খবর ক্রীড়াঙ্গনকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতেই খেলার সুযোগ তো ছিলই, সৌদি আরব থেকেও ছিল চোখ কপালে তোলার মতো অবিশ্বাস্য অর্থের ঝনঝনানি। কিন্তু সব ছেড়ে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাবকে বেছে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসির মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়, ফ্লোরিডার ক্লাবটিতে ঠিক কত আয় করেন মেসি? এতদিন শুধু বেতন বাবদ পারিশ্রমিকের ব্যাপারে জানা গেলেও ক্লাবের সঙ্গে শেয়ারসহ অন্যান্য যেসব চুক্তি আছে, সেটার সঠিক আয় সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
অবশেষে বিষয়টি নিজেই পরিষ্কার করেছেন ইন্টার মায়ামির অন্যতম সহমালিক জর্জ মাস। তিনি জানিয়েছেন, শুধু মায়ামি থেকেই বছরে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার আয় করেন মেসি, বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ৮৫০ কোটি থেকে ৯৭৩ কোটি টাকার মধ্যে!
তা জর্জ মাস হঠাৎ মায়ামি থেকে পাওয়া মেসির আয়ের পরিমাণ জানালেন কেন? এর মূল কারণ, সম্প্রতি ব্রাজিলের আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান নু হোল্ডিংসের সঙ্গে চুক্তি করেছে মায়ামি। এর ফলে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নির্মাণাধীন ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামের নাম হবে নু স্টেডিয়াম। ২৬ হাজার ৭০০ দর্শক ধারণক্ষমতার নির্মাণাধীন এই স্টেডিয়ামের প্রথম ম্যাচ আয়োজনের কথা আগামী ৪ এপ্রিল।
ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন- এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ব্লুমবার্গের সঙ্গে কথা বলেছেন জর্জ মাস। সেখানে মায়ামির সহমালিক জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের বেতন মেটাতেই ক্লাবকে স্পনসরশিপ ও আয়ের উৎস বাড়াতে হয়।
জর্জ মার্সের ভাষায়, ‘আমার স্পনসর দরকার এবং তাদের বিশ্বমানের হওয়াও জরুরি। কারণ খেলোয়াড়দের খরচ অনেক বেশি। আমি মেসিকে যে পারিশ্রমিক দিই— বছরে সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার। আর এটার প্রতিটা ডলারই ওর প্রাপ্য।’
এমএলএস প্লেয়ারস অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত বেতন তালিকা অনুযায়ী, মায়ামিতে মেসির মূল বেতন বছরে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর বোনাসসহ এ পারিশ্রমিক বছরে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেসি যখন মায়ামিতে যোগ দেন, তখন ক্লাবটির মূল্য ছিল ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর সম্প্রতি ফোর্বস জানিয়েছে, মায়ামির মূল্য বেড়ে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তবে মায়ামির শেয়ারে ঠিক কত অংশের মালিক মেসি, সেটা জর্জ মাস বা মেসি- কেউই স্পষ্ট করেননি। কিন্তু মায়ামির সহ মালিক যে হিসাব দিয়েছেন, সে হিসাবে শেয়ার মালিকানা বাবদ ক্লাব থেকে মেসি বছরে অন্তত ৬ কোটি ডলার পান বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক। সংবাদমাধ্যমটি এটাও উল্লেখ করেছে, ক্লাবটির মূল্য যত বাড়ছে, মেসির চুক্তির মূল্যও বেড়ে চলছে সমানতালে।
সম্প্রতি মায়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন মেসি। যে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ফ্লোরিডার ক্লাবটিতে খেলবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তা নতুন এই চুক্তির সময় মালিকানার শেয়ার মেসি আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ তো গেল ক্লাব থেকে আয়। এর বাইরেও এমএলএসে যোগ দেওয়ার সময় মেসি আলাদাভাবে ফ্যানাটিকস ও অ্যাপলের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। এছাড়া অ্যাডিডাসের সঙ্গেও চুক্তি আছে মেসির। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মেসি যা আয় করেন, সেসব ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নয়।