ভালভের্দের হ্যাটট্রিকে মাদ্রিদের জয়

গত দশ বছরে যা হয়নি, তা-ই করে দেখালেন ৪২ মিনিটে

দীর্ঘ এক দশকের ক্যারিয়ার। কিন্তু গতকাল বুধবারের আগে কখনোই হ্যাটট্রিক করতে পারেননি ফেদে ভালভের্দে। হ্যাটট্রিক করবেনই বা কীভাবে? খেলেন মিডফিল্ডার হিসেবে। যার মূল কাজ মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখা, আক্রমণভাগকে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। শুধু মিডফিল্ডার হিসেবেই নয়, মাঝে মধ্যে তো রাইটব্যাক পজিশনেও খেলতে দেখা যায় ভালভের্দেকে।

সেই ভালভের্দে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন গতকাল। আর হ্যাটট্রিক করার জন্য বেছে নিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটের মঞ্চকেই। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে গতকাল ভালভের্দের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করেই ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ।

গোল ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা ভালভের্দের একেকটা গোন যেন আরেকটার চেয়ে বেশি দৃষ্টিনন্দন ছিল।

ভালভের্দের রাতে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত স্মৃতি ফিরেছে পেপ গার্দিওলার সামনে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউটে এটি যৌথভাবে গার্দিওলার বড় ব্যবধানে পরাজয়। এর আগে বায়ার্নের দায়িত্বে থাকার সময় ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার কাছে সেমিফাইনালে তাঁর দল হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। আর সিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৭-১৮ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে একই ব্যবধানের হারের সাক্ষী হয়েছিলেন লিভারপুলের বিপক্ষে।

গতকাল ভালভের্দে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন ম্যাচের ২০ মিনিটে। থিবো কোর্তোয়ার লম্বা করে বাড়ানো বল সিটির সীমানায় ডানপ্রান্তে পেয়ে যান ভালভের্দে। প্রথম স্পর্শে নিকো ও’রাইলিকে পেছনে ফেলেন উরুগুয়ে তারকা। তখন ভালভের্দের সামনে শুধু সিটি গোলকিপার দোন্নারুম্মা। বিপদ বুঝতে পেরে গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন সিটি গোলকিপার। কিন্তু ভালভের্দের কৌশল ঠাওর করতে পারেননি দোন্নারুম্মা। দ্বিতীয় স্পর্শে আলতো ছোঁয়ায় তাঁকে পরাস্ত করেন ভালভের্দে। এরপর বক্সে ঢুকে শট নিয়ে জালে বল জড়ান।

এর সাত মিনিট পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যান ভালভের্দে। এবার ভিনিসিয়ুসের বাড়ানো বল সিটি ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসের পায়ে লেগে ভালভের্দের সামনে যায়, সেখান থেকে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন মাদ্রিদ অধিনায়ক।

আর প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে আদায় করেন ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। এবার ব্রাহিম দিয়াসের আলতো চিপে বাড়ানো বল আরেকটা চিপে মার্ক গেহির মাথার ওপর দিয়ে পার করেন ভালভের্দে। বল আকাশে থাকতেই দারুণ ভলিতে পরাস্ত করেন দোন্নারুম্মাকে। ব্যস, ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের উদযাপনে মাতেন বের্নাবেউয়ে উপস্থিত ৭৬ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে।

ভালভের্দের সৌজন্যে প্রায় এক যুগ পর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো নকআউটে প্রথমার্ধেই তিনটি গোলের দেখা পেল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটি শেষবার এমনটা করতে পেরেছিল ২০১৪ সালে এপ্রিলে, বায়ার্নের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। মজার বিষয়, তখন বায়ার্নের ডাগআউটে ছিলেন গার্দিওলা।

গতকালের ম্যাচের নায়ক ভালভের্দে ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। এমন রাতের স্বপ্নই সবাই দেখে। আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওরা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। কোচিং স্টাফ এবং আমাদের সমর্থন করা সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা। যদিও মৌসুমটা কঠিন যাচ্ছে। তবে আজ আমি দারুণ উপভোগ করেছি। অনেক দিন পর এমনভাবে একটি ম্যাচ উপভোগ করলাম।’

ভালভের্দের উপভোগ করারই কথা। অন্যদিকে গার্দিওলার জন্য ছিল ভুলে যাওয়ার মতো রাত। আগামী মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুদল। ওই ম্যাচে সিটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে কি না, এমন প্রশ্ন গিয়েছিল সিটির সংবাদ সম্মেলনে।

সেখানে গার্দিওলা বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব। মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। তবে সেখানে (ইত্তিহাদে) আমাদের সমর্থকদের সামনে লড়াই চালিয়ে যাব।’

সিটি কোচ যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা মোটামুটি ভালোই খেলেছি। আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেকবার প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকেছি। এতেই বোঝা যায়, আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু গোল করতে পারিনি।’

সিটি অধিনায়ক বের্নান্দো সিলভার ভাষায়, ‘ম্যাচের পরিবেশ আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আবেগের কারণেই আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। প্রথমে আমরা স্বচ্ছন্দেই ছিলাম। কিন্তু প্রথম গোল হজম করার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। রেয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে সেটা হলে এর চরম মূল্য দিতে হয়।’